এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: যার বাড়ি ঘরে পানি- সেই বোঝে জ্বালা। অন্য কেউ বোঝবে না এ কষ্ট। বন্যার পানি
বাড়ি ঘরে ঢুকে পড়ায় যশোর-চুকনগর সড়কের পাশে আশ্রয় নেওয়া মধ্যকুল এলাকার
রহিমা খাতুন এ ভাবেই তার মনের কষ্টের কথাগুলো জানায়। সম্প্রতি ভারি বৃষ্টি ও নদ-নদীর
উপচে পড়া পানিতে কেশবপুর পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম
প্লাবিত হয়েছে। কেশবপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মধ্যকুল ও হাবাসপোল এলাকা প্রায়
এক মাস প্লাবিত থাকায় মানুষ বাধ্য হয়েই যশোর চুকনগর সড়কের দু’পাশে জীবনের
ঝুঁকি নিয়ে টং ঘর বেঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
কেশবপুরে সম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর উপচে পড়া পানিতে প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি
হয়। এ পানি সরতে না পেরে এখন ভয়াভহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতায় উপজেলার
১০৪ গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দির শিকার হয়েছে। কেশবপুরের
আপার ভদ্রা, হরিহর নদ ও বুড়িভদ্রা নদী পলিতে ভরাট হওয়ায় পানি প্রবাহে বাঁধাগ্রস্ত হয়ে
এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পানি মানুষের বাড়ি ঘরে ঢুকে পড়ায় বাধ্য হয়েই উঁচু স্থানে
আশ্রয় নিচ্ছেন।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর-চুকনগর সড়কের কেশবপুর মধ্যকুল এলাকায় গিয়ে
দেখা যায়, প্রায় শতাধিক পরিবার রাস্তার দু’পাশে টং ঘর বেঁধে রয়েছেন। রহিমা
খাতুনের মতো ওই রাস্তার দু’পাশে আশ্রয় নিয়েছেন আব্দুল মজিদ, এনামূল হোসেন,
শহীদ হোসেনসহ প্রায় শতাধিক পরিবার। অনেকেই বাড়ির গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগী
নিয়ে রাস্তায় এসে উঠেছেন। মধ্যকুল এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন,
গোয়াল ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় তিনি গরু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। গ্রামের শাহীনুর
রহমান বলেন, তার সেঝ ভাই আলতাপ হোসেন মারা যাওয়ায় কবর স্থানে পানি থ্ধাসঢ়;কার
কারণে উঁচু স্থানে নিয়ে কবর নিতে হয়েছে। গ্রামের অপর মৃত ব্যক্তি সিরাজুল
ইসলামকে নৌকায় করে নিয়ে কবর স্থানের পাশে উঁচু স্থানে দাফন করতে হয়েছে।
সড়কের পাশে আশ্রয় নেওয়া এনামুল বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সড়কের পাশে এসে
থাকতে হচ্ছে। রাতে যখন গাড়ি চলাচল করে তখন টং ঘরের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে ভয়ের
সৃষ্টি হয়। আশ্রয় নেওয়া টং ঘর এলাকায় গাড়ি ধীর গতিতে চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকার সচেতন মহল। আশ্রয় নেওয়া আব্দুল মজিদ
জানান, রাতে টং ঘর এলাকায় বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। মধ্যকুল
খানপাড়া এলাকার আব্দুস সেলিম বলেন, তার ঘরে প্রায় ১ মাস ধরে পানি রয়েছে। পরিবার
পরিজন নিয়ে সড়কের পাশে অন্যের একটি উঁচু ঘরে এসে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে।
কেশবপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, মধ্যকুল সড়কের পাশে
যারা আশ্রয় নিয়ে আছেন তাদের জন্য দ্রুত আলোর ব্যবস্থা করা হবে।
এ ব্যপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুমন সিকদার বলেন,
আপার ভদ্রা, বুড়িভদ্রা নদী খননে এস্কোভেটর দিয়ে খনন কাজ চালানো হচ্ছে। দ্রুত এলাকা
থেকে পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।















