এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: কেশবপুরে জলাবদ্ধতার পানি কম বা বেশি হওয়া নির্ভর করছে বৃষ্টির উপর। বৃষ্টি নামলেই
পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টি না থাকলে উঁচু এলাকা থেকে পানি কমছে ধীর গতিতে। গত
কয়েক দিন পানি কিছুটা কমলেও শনিবারের ভোর রাতের টানা বৃষ্টিতে আবারও পানি
বেড়ে গেছে। প্রায় এক মাস জলাবদ্ধতা থাকায় পানি পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। এলাকার
মানুষ বাধ্য হওয়েই ওই পঁচা পানির ভেতর দিয়েই যাতায়াত করছে। পানি নষ্ট হওয়ায় মানুষের
শরীরে দেখা দিয়েছে পানি বাহিত রোগ। বিশেষ করে হাত পায়ে চুলকানি শুরু হয়ে লালচে
দাগ হয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি কেশবপুরে টানা বৃষ্টির পাশাপাশি নদ-নদীর উপচে পড়া পানিতে কেশবপুর পৌর
এলাকাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১০৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি
হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ রোদে পানি কিছুটা কমে। আবার বৃষ্টি হলেই পানি
বেড়ে যাচ্ছে। অবস্থা এমন অবস্থায় পৌছেছে রোদ ও বৃষ্টির সঙ্গেই কেশবপুরের জলাবদ্ধতার
পানি কম-বেশি হচ্ছে।
গত শনিবার ভোর রাতে একটানা বৃষ্টি হওয়ায় জলাবদ্ধ এলাকায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিন কেশবপুর সদরের সাহা পাড়ায় গেলে দেখা যায়, সেখানকার জলাবদ্ধতার পানি
কালো রং ধারণ করেছে। এলাকার বাসিন্দা সুশিল অধিকারী বলেন, প্রায় ১ মাস পানি
জমে থাকায় কালো রং হয়ে গেছে। পানির ভেতর দিয়ে যাতায়াতে দেখা দিয়েছে হাত-
পায়ে চুলকানি। দোরমুটিয়া গ্রামের হুমায়ূন কবীর বলেন, গত ৩ দিন বৃষ্টি না হওয়ায়
উঠান থেকে পানি সরে গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার ভোর রাতের একটানা বৃষ্টিতে আবারও
উঠানে পানি চলে এসেছে। আলতাপোল গ্রামের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
জলাবদ্ধতার পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার
জলাবদ্ধতার পানির ভেতর দিয়ে কেশবপুর বাজারে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে। হাবাসপোল
গ্রামের নাহিদ হাসান বলেন, এলাকার মানুষের বাড়িতে পানি থই থই করছে। শনিবারের
বৃষ্টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
যশোর-চুকনগর সড়কের পাশে টং ঘরে অবস্থান নেওয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের আব্দুল হক
বলেন, বাড়িতে পানি থাকায় সড়কের পাশে এসে অবস্থান নিতে হয়েছে। রাতে এখানে
থাকলেও বাথরুম ও ল্যাট্রিনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তিনি দ্রুত টং ঘর এলাকায় বাথরুম
ও ল্যাট্রিন তৈরি করে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্তকতা ডাক্তার মো.
আলমগীর বলেন, জলাবদ্ধ এলাকায় ছোট ছোট গাছপালা মরে পানি কালো রং ধারণ করে।
সম্প্রতি জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় মানুষের শরীরে চুলকানির পাশাপাশি পানি বাহিত
রোগ দেখা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগও কিছুটা বেড়েছে। এখান হাসপাতালে
এসমস্ত রোগি চিকিৎসা নিতে আসছে।















