আজ শারদীয় উৎসবের চতুর্থদিন মহা দুর্গানবমী, মাতৃবন্দনায় কুমারীপূজা ও অসুর শক্তি বিনাশে সন্ধিপূজা সম্পন্ন

0
136

প্রণব দাস : বাঙালি সনাতন ধর্মবিশ্বাসীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয়
দুর্গাপুজোর শ্রীশ্রী মহা দুর্গাষ্টমী তিথি ধর্মীয় নানা
মাঙ্গলিক আচারানুষ্ঠান ও ভক্তদের অঞ্জলি প্রদানের মধ্য দিয়ে শুক্রবার
সকালে সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে
এদিন বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথি অনুযায়ী অষ্টমী
তিথীর শেষ ও নবমী তিথির শুরুর সন্ধিক্ষণে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিট
থেকে ১টা ১ মিনিট পর্যন্ত ‘সন্ধিপূজা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার উৎসবের চতুর্থ দিনে মহা দুর্গা নবমী কল্পারম্ভ ও
বিহিত পূজা সম্পন্ন হবে। শাস্ত্রমতে এদিন ১০৮টি পদ্মফুলে
পূজিত হবেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। যশোর রামকৃষ্ণ
আশ্রম ও মিশনে পূজা শুরু হবে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে।
অন্যান্ন দিনের মতো এদিনও যথানিয়মে অষ্টমী পূজা শুরু করেন
পূজারিরা। এরপর পূজার মধ্যভাগে মাতৃবন্দনায় যশোরের রামকৃষ্ণ
আশ্রম ও মিশনে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে হয়েছে কুমারী পূজা।
যশোর বেজপাড়ার বাসিন্দা ব্যাংকার অতনু চক্রবর্তী ও মা ডেন্টিস্ট
ডাক্তার সুদীপা বিশ্বাসের তিন বছরের কন্যা অনাত্রিকা চক্রবর্তীকে
শাস্ত্রমতে ‘ত্রিধামূর্তি’ নামে এবার মাতৃদেবী জ্ঞানে পূজিত
হয়। এসময় ভক্তরা আরাধনা করে বলেন, ত্রিলোক শ্রেষ্ঠা সুন্দরী, উৎকৃষ্ট
বর্ণ ধারিণী হে বালিকা তুমি কল্যাণকর, তুমি প্রকাশকারিণী,
মনোহর হাস্যযুক্ত, মহানন্দময়ী, মঙ্গলময়ী, পরমানন্দ স্বরূপিণী জগৎ
জননী- তোমাকে প্রণাম জানাই।
কুমারী পূজা শেষে মাতৃবন্দনায় ভক্তবৃন্দ পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে তাদের
অর্ঘ্য দেন দুর্গতিনাশিনী শ্রীশ্রী দেবী দুর্গার কমল চরণে। শুদ্ধ
দেহে শুদ্ধ মনে ত্রিনয়নী মহাদেবী সর্বজয়া ব্রহ্মচারী, বিশ্বমাতা,
সর্বব্যাপিনী সর্ব ঐশ্বর্যময়ী ও সমগ্র জগতের দুঃখহারিণী
দশভুজা দেবী দুর্গার আরাধনা করে মহাষ্টমীতে আশীর্বাদ
প্রার্থনা করেন তারা।
এরপর মহা অষ্টমীর শেষ দণ্ড (২৪ মিনিট) আর মহা নবমীর শুরুর প্রথম
দণ্ডে (২৪ মিনিট) ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে অসুর শক্তি
বিনাশে খড়্ধসঢ়;গ দিয়ে চালকুমড়ো, পাকা কলা ও আখ গাছকে
‘প্রতীকী বলি’ কার্যকর করা হয়।
যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে এ বলি কার্যক্রমে অংশ নেয়
বিদ্যার্থী ভবনের শিক্ষার্থীবৃন্দ। পুরোহিতের ভূমিকা পালন করেন
প্রণয় চক্রবর্তী। তন্ত্রধারী পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন শক্তিপদ
গাঙ্গুলি। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও
মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ মহারাজ ও সহ অধ্যক্ষ
আত্মবিভানন্দ মহারাজ।
উল্লেখ্য, ‘সন্ধিপূজা’ আসলে অসুর নাশিনী দেবী দুর্গার আর
এক অসুর দলনী রূপের পূজা । সেই দেবীর নাম ‘চামুণ্ডা’। অষ্টমী ও
নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডা চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে
নিধন করেছিলেন। তাই অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডার
পূজা করা হয়। অসুর শক্তি বিনাশের লক্ষ্য নিয়ে এদিন অষ্টমী তিথির
শেষ দণ্ড অর্থাৎ শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম দণ্ড অর্থাৎ
প্রথম ২৪ মিনিট এই মোট ৪৮ মিনিটের মহা সন্ধিক্ষণে এ
পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে শুক্রবার শারদীয় উৎসবের তৃতীয় দিন নতুন ও পরিচ্ছন্ন
পোষাকে সজ্জিত হয়ে সকাল থেকেই মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে ছোট-বড়
ভক্তদের পদচারণা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে ভক্তদের
ভিড় বাড়তেই থাকে। বিকেলে যশোর পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন
পূজা প্রাঙ্গণমুখী দর্শনার্থী ও ভক্তবৃন্দের উপচে পড়া ভিড় ছিল
লক্ষণীয়।
আজ ১২ অক্টোবর সকালে মহানবমী পূজা কল্পারম্ভ এবং আগামীকাল
১৩ অক্টোবর সকালে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে মহাদশমী কল্পারম্ভ-
পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন সকাল ৯ টা ৩৯ মিনিটের মধ্যে।
প্রসঙ্গত, যশোরে এ বছর আট উপজেলায় ৬৫৬টি মন্দির ও মণ্ডপে
দুর্গাপূজা হচ্ছে। এর মধ্যে যশোর সদরে পৌর এলাকায় ৫০টিসহ
মোট ১৫৭টি, কেশবপুরে পৌর এলাকায় ৭টিসহ মোট ৯২ টি,
মণিরামপুরে পৌর এলাকায় ৯টিসহ মোট ৯৩ টি, চৌগাছায়
পৌর এলাকায় ২০টিসহ মোট ৩৮ টি, ঝিকরগাছায় পৌর
এলাকায় ৭টিসহ মোট ৪৮টি, বাঘারপাড়ায় পৌর এলাকায়
৩টিসহ মোট ৮৩ টি, শার্শায় বেনাপোল পোর্ট থানাধীন
৭টাসহ ২৮টি অভয়নগরে নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় ১৭টি ১১৫টি
মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের এ পূজা
হয়েছিল ৭৩২টি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here