জলাবদ্ধ কেশবপুরে গো-খাদ্যের সংকট

0
133

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: কেশবপুরের জলাবদ্ধ এলাকায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিপাত ও
নদ-নদী উপচে পানি ঢুকে এ উপজেলার ১০৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এখানকার নদ-নদী পলিতে ভরাট
হওয়ায় পানি নিষ্কাশণ হতে না পেরে পানি উপচে পড়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। পানি না নামায় উপজেলা
ব্যাপী ভয়াবহ জলাবদ্ধতা শুরু হয়েছে। জলাবদ্ধতায় কৃষি ক্ষেতসহ মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে যায়।
ডুবে রয়েছে মাঠ-ঘাট। জলাবদ্ধতার কারণে আমন ধানের আবাদও মারাত্মক ভাবে ক্ষতি হয়েছে।
মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না ঘাস। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বেশির ভাগ কৃষকরা খড়ের
অভাবে গবাদি পশু পালনে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ২ মাস ধরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে
পড়েছে গবাদি পশু নিয়ে কৃষকরা। গো-খাদ্যের সংকটের মধ্যে খড়ের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২ মাসের
ব্যবধানে খড়ের (বিচালী) দাম বৃদ্ধি হয়েছে ডবল। আর এ কারণে গবাদি পশু পালনে বাড়তি টাকা
ব্যয়ে খামারিরা খড় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার দুর থেকে উচু সড়কের পাশ থেকে ঘাস ও
নদ-নদীর কচুরিপানা কেটে গরুকে খেতে দিচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে এবার উপজেলার ১০৪টি গ্রাম প্লাবিত
হয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় অনেকে অন্যত্র উচু
স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে এবার আমনের ক্ষেত
আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৭৩ হেক্টর। এর মধ্যে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে ১ হাজার ৮৩০ হেক্টর। উচু
ক্ষেতের অনেক আমন ধান পড়ে গেছে।
সরেজমিন উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামে গেলে দেখা যায় নূরজাহান নামের এক কৃষাণী খাল থেকে
গরুর জন্য কচুরিপানা সংগ্রহ করছেন। তিনি জানান তার রয়েছে ৩টি গরু। এবার বিলসহ মাঠ
ঘাটে পানি থই থই করায় কোথাও ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না। খড়ের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়ির লক্ষী
গরুর জন্য সকাল হতে না হতে খাল থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করছি।
খোঁজাখালী খাল থেকে চকুরিপানা সংগ্রহ করতে এসেছেন ৪ কিলোমিটার দূরের ব্যাসডাঙ্গা
গ্রামের কৃষক মুজিবর রহমান। তিনি বলেন বন্যার পানির কারণে তাদের গ্রামটি সম্পূর্ণ
তলিয়ে রয়েছে। তাঁর রয়েছে ৩টি গরু। গরুর জন্য বাড়িতে কোন খড় নেই। বাজারে খড়ের দামও
অনেক। খড় কেনার মত তার অবস্থা নেই। যে কারণে বাধ্য হয়েই দূরের গ্রাম থেকে খোঁজাখালী খাল
থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। যশোর-চুকনগর সড়কের মধ্যকুল এলাকায় ঘাস কাটার
সময় কথা হয় রজব আলী নামে একজন গরু পালনকারীর সঙ্গে। তিনি বলেন তাদের এলাকা ২ মাস ধরে
জলাবদ্ধতা হয়ে পড়েছে। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। আর এ কারণেই সড়কের পাশ থেকে
ঘাস কাটা হচ্ছে গরুর খাদ্যের জন্য।
উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, বন্যার আগে বাজারে ১ পন বিচালীর (খড়) দাম
ছিল ২৫০ টাকা। এখন সেই খড়ের দাম বৃদ্ধি হয়েছে ৫৫০ টাকা। তার প্রতিদিন হাফ পন খড়
কিনতে হচ্ছে। বাজারের দীর্ঘ দিনের বিচালী (খড়) বিক্রেতা নওয়াব আলী বলেন এলাকায় এখন খড়
পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরের থেকে খড় কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। যে কারণে দাম বেড়েছে।
যশোরের বাঘারপাড়া থেকে আলমসাধুতে (স্থানীয় বাহন) কেশবপুরে খড় বিক্রি করতে এসেছেন
মিজানুর রহমান। তিনি বলেন কেশবপুরের জলাবদ্ধ এলাকায় প্রতিদিনখড় বিক্রি করতে আসি।
জলাবদ্ধ এলাকায় খড়ের চাহিদাও বেশি। প্রতি কাহন বিচালী (খড়) ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা
দরে বিক্রি হয়ে থাকে।
কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন বলেন, তার ইউনিয়নের ১১টি গ্রামই ২
মাস যাবত জলাবদ্ধতা হয়ে পড়েছে। মানুষের বাড়িতে পানি উঠে এসেছে। মাঠ-ঘাটে থই থই
করছে পানি। এলাকায় গো-খাদ্যের সংকটে গবাদি পশু পালনকারীরা পড়েছেন বেকায়দায়।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা অলোকেশ সরকার বলেন, কেশবপুরে ভয়াবহ জলাবদ্ধ এলাকায়
গরুকে খাওয়ানোর জন্য খড়ের কিছুটা সংকট রয়েছে। তবে গবাদি পশু পালনকারীরা বাইরে থেকে
খড় সংগ্রহ করে সংকট মোকাবেলা করে থাকেন। সব সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে
অবহিত করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here