মণিরামপুরে ভন্ড কবিরাজের খপ্পরে পড়ে কয়েটি পরিবার সর্বশান্ত, টাকা উদ্ধারের ভুক্তভোগিরা তাদের আটক করেছে

0
402

মোন্তাজ আলী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: মনিরামপুরে পল্লিতে দুই ভন্ড কবিরাজের খপ্পরে
পড়ে কয়েকটি পরিবার সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। কবিরাজ পিতলের পুতুল ক্রয় করে সোনার
পুতুল বলে বিক্রয় ও বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি হবে বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে
অর্ধলক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পাইকগাছা এলাকার কবিরাজ আনারুল হোসেন ্ধসঢ়;ও
কবিতা দাসকে দেওয়া টাকা ভুক্তিভোগিরা উদ্ধার করার জন্য তাদের আটক করে রেখেছে বলে
অভিযোগ উঠেছে।
সুত্রে জানা যায়, মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামের আজগার আলীর ছেলে আফজাল
হোসেন (৪৩) তার স্ত্রীর সন্তান না হওয়ার কারনে লোক মাধ্যমে সন্ধান পাই পাইকগাছা
উপজেলার পূর্বগর্জআলী গ্রামের দাউত আলীর ছেলে ভন্ড কবিরাজ আনারুল হোসেন (৫২)
ও একই উপজেলার বানবাড়িয়া গ্রামের মাকোম দাসের স্ত্রী কবিতা দাস ( ৪২) তার
বাড়িতে এসে ভারণ দিয়ে বলে তোমার বাড়ির পাশে একটি পুতুল পোতা আছে
পুতুলটাকে উঠায় দিলে তোমাদের সন্তান ধারণ করতে পারবে এবং এ পুতুল উঠাতে ৫০
হাজার টাকা দাবী করে। আফজাল হোসেন কবিরাজের কথা মতো বিভিন্ন লোকজনের
কাছ থেকে ধার ও সুদে করে টাকা ম্যানেজ করে তাদের হাতে তুলে দেয়। পরে দিন রাতে তারা
গোপনে বাড়ির পাশে একটি পুতুল পুতে রাখে। তারা ভারণ দিয়ে সে পুতুল উঠায় নিয়ে
আসে। শ্রীপুর গ্রামের বজলু রহমানের ছেলে আবু তাহের (৪৭) কে কবিরাজ কবিতা দাস
বলে তোমার বাড়ির পাশে পুকুরে কোটি টাকার সোনার পুতুল আছে। পুতুলটি ভারণ
দিয়ে উঠায় দিবো আমাকে ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। সেও ছাগল বিক্রিসহ বিভিন্ন
লোকের কাছ থেকে টাকা এনে তাদের দিলে পুতে রাখা পিতলের পুতুল তুলে এনে দেয়। বজলু
সোনার পুতুলটি বিক্রি করতে গেলে স্বর্ণকার বলে পুতুলটি সোনার না নকল । কিছু
দিন পর প্রতারক কবিরাজ ব্রহ্মপুর গ্রামের শাহজান আলীকে বলে তুমি একটি হাড়ির
মধ্যে ১৫ হাজার টাকা রাখলে ২০ হাজার টাকা পাবে। সে কবিরাজদের কথা শুনে পাগল হয়ে
বাড়ি নিয়ে যায়। রাতে শাহজান কবিরাজদের কথা মতো হাড়ির মধ্যে ১৫হাজার টাকা রাখে
পরে কৌশলে তারা হাড়ির মধ্যে ৫হাজার টাকা রাখে দেয়। পরের দিন এই খবর চার দিকে
ছড়িয়ে পড়লে সেখান থেকে আরো লোকের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে পালানোর
সময় এলাকার লোকজন তাদের ধরে ফেলে। এলাকার লোকজন তাদেরকে মারাপিট করলে প্রতারনার
সব কথা খুলে বলে। ভুক্তভোগিরা তাদের দেওয়া টাকা ফেরৎ চাইলে তারা না দেওয়ার জন্য
বিভিন্ন প্রতারণার কথা বলে। ভুক্তভোগিরা তাদের টাকা উদ্ধারের জন্য সোমবার রাতে তাদের
আটক করে রাখে। পরের দিন কৌশল করে আনারুল পালিয়ে যায়। সোমবারের দিন কথা হয় ভন্ড
কবিরাজ আনারুল জানায়, আমি কবিতা দাসকে কবিরাজ সাজিয়ে এনেছিলাম আর
পুতুল দুটি কেশবপুর বাজার থেকে ২৪ শত টাকা দিয়ে কিনে এনেছি। আমাদেও ভুল হয়ে
গেছে আর কোন দিন এমন কাজ করবো না। কবিতা দাস জানায়, আমি যতো টাকা
নিয়েছি সব টাকা আমার জামাইয়ার বিকাশ নাম্বারে দিয়েছি। সে আমার ফোন
রিসিভ করছে না, কি করে আপনাদের টাকা ফেরৎ দিবো। ভুক্তিভোগি আফজাল জানায়,
আমার স্ত্রীর সন্তান হয় না। এই বিষয় অনেক টাকা খরচ করেছি, কোন লাভ হয়নি যে কারণে
তাদের কথা মতো অনেক কষ্ট করে টাকা দিয়েছি। তারা তিন রাত আমার বাড়িতে এক
সাথে কাটিয়েছে। এখন দেখি সব তাদের প্রতারণা আমার টাকা না দিলে তাকে
ছাড়বোনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here