বনদস্যুদের আতংঙ্ক, ঝড় জলোচ্ছাস আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে প্রায় ৩০ হাজার জেলের সমুদ্রে যাত্রা

0
153

মোংলা প্রতিনিধি : শুরু হয়েছে সুন্দরবনের দুবলার চরের শুঁটকি তৈরির মৌসুম। তাই দুবলাার চরের আরোর কোলের
শুঁটকি পল্লীতে ফের শুরু হবে জেরেদের কর্মব্যস্ততা। নতুন কওে বনদস্যুদেও আতংঙ্ক আর জীবনের
ঝুঁকি ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মৎস্য আহরণের জন্য সমুদ্রে যাত্রা করছে প্রায় ৩০ হাজার
জেলা। দীর্র্ঘ ৭ মাস বেকার বসে থাকার পর জেলেরা সমুদ্রে মৎস্য আহরণকে ঘিরে নতুন করে
বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় ঝড় জলোচ্ছাস কথা চিন্তা না করে জীবনের
ঝুকি নিয়ে রওয়ানা হয়েছে উপকূলের জেলে-মহাজনেরা। সাগওে মাছ আহরণের জন্য যে যার মত
প্রস্তুত করেছেন জাল, দড়ি, নৌকা-ট্রলার সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। ধাার-দেনা করেু কেউ গড়েছেন
নতুন ট্রলার, আবার কেউ পুরাতন নৌকা মেরামত করে নিয়েছেন মাছ ধরার জন্য্য। প্রস্তুতি
অনুযায়ী অনেকেই আগেভাগে রওনা দিচ্ছেন। গত ৩ দিন যাাবত সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে
এরই মধ্যে ঝড়ো হয়েছে মোংলা পশুর নদীর পাড়ে।
বন বিভাগ জানায়, মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল সরকারের। রবিবার (৩ নভেম্বর)
নিষেধাজ্ধসঢ়;হা শেষ, তাই রাত ১২টার পরপরই দুবলার চরের উদ্দ্যেশে রওনা হয়ে যাবেন জেলেরা। আগামী ৫
মাস তারা দুবলার চর সহ ৫টি চরে থাকবেন এ সকল জেলেরা। তৈরি করবেন বিভিন্ন প্রজাতের
মাছের শুঁটকি। দুবলার চর বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের দক্ষিণে, কটকার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং হিরণ
পয়েন্টের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি দ্বীপ যা চর নামে হিন্দুধর্মের পূণ্যস্নান, রাসমেলা
এবং হরিণের জন্য বহুল পরিচিত। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝে এটি একটি বিচ্ছিন্ন চর। এই চরের
মোট আয়তন প্রায় ৮১ বর্গমাইল। আলোরকোল, হলদিখালি, কবরখালি, মাঝেরকিল্লা,
অফিসকিল্লা, নারকেলবাড়িয়া, ছোট আমবাড়িয় এবং মেহের আলির চর নিয়ে দুবলার চর গঠিত।
বিশেমষ কওে দুবলার চরের আরোর কোলে তৈরি হয় জেলে গ্রাম। মাছ ধরার সঙ্গে চলে শুঁটকি
শোকানোর কাজ। বর্ষা মৌসুমের ইলিশ শিকারের পর বহু জেলে পাঁচ/ সাড়ে পাঁচ মাসের জন্য
সুদূর কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ, বাগেরহাট, পিরোজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা সহ বিভিন্ন অঞ্চল
থেকে এসে সেখানে ডেরা বেঁধে অস্থায়ী বসতি গড়ে তুলবেন তারা। মেহেরআলীর খাল আর
আলোর কোল ছাড়াও মাঝেরচর, অফিসকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া, মানিকখালী, ছাফরাখালী ও শ্যালারচর
ইত্যাদি এলাকায় ছোট আকাওে জেলে পল্লী গড়ে উঠে। এই কমাস ওই সকল জেলেরা মাছকে
শুঁটকি তৈরীতে ব্যস্ত থাকেন। এখান থেকে তৈরী করা শুঁটকি পাইকারী বাজারে মজুদ ও বিক্রয়
করা হয়।
সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগ থেকে মাছ সংগ্রহের অনুমতি সাপেক্ষে বহরদার ও জেলেরা দুবলার চরে
প্রবেশ করে থাকেন। দুবলার চর থেকে সরকার নিয়মিত হারে রাজস্ব আদায় করে বন বিভাগ। প্রতি
বছর বিএলসি বা বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট, ডিএফসি বা ডেইলি ফুয়েল (জ্বালানি
কাঠ) সহ অন্যান্য সকল কার্যক্রম সম্পন্ন কওে অনুমতি সাপেক্ষে মাছ আহরণ করে এবং বন
বিভাগকে রাজস্ব প্রদান করে মৎস্য ব্যবসায়ীগণ সুন্দরবনে ঢোকার অনুমতি পান, এছাড়া
আহরিত শুঁটকি মাছ পরিমাপ করে নিয়ে ফিরে আসার সময় মাছভেদে প্রদান করেন নির্ধারিত
রাজস্ব।
শুধুমাত্র সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে ও নানা প্রতিকূলতায় ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে
পারেনি জেলে পরিবারগুলো। বরং দিন দিন তাদের অবস্থার অবনতি ঘটেছে। ক্রমবর্ধমান ক্ষতির মুখে
ইতোমধ্যে পূঁজি ও জাল-নৌকা হারিয়ে পেশা হারিয়েছেন অনেকে। জেলেরা বলছেন, ২০০১৮
সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবনে দস্যুমুক্ত ঘোষনা করা হলেও গত ৫ আগষ্টের পর নতুন করে বিভিন্ন
বাাহিনীর নামের সুন্দরবনে বন দস্যুদের উৎপাত শুরু হয়েছে। এক দিকে সেই দস্যু আতংঙ্ক,
অন্যদিকে চড়া সুদে টাকা নিচ্ছেন সুদের কারবারিদের কাছ থেকে। কেউবা টাকা গ্রহণে
এনজিও, বিভিন্ন ব্যাংক ও সমিতি থেকে ঋণ করছেন। ঋণের সুদের বোঝার সঙ্গে এমন দুশ্চিন্তা
মাথায় নিয়েই ৫ মাসের এক অনিশ্চিত জীবন শুরু করতে যাত্রা শুরু করেণ তারা। আবার সাগর পাড়ে
ঝড় জলোচ্ছাসতো আছেই!
বহদ্দার শুভংকর দেব হালদার সহ জেলেরা অনেকেই বলেন, প্রতি বছর আমরা বিভিন্নভাবে ঋণ করে
সমুদ্রে যাই। এবছরও পাঁচ লক্ষ টাকা ঋন করেই সাগরে যাচ্ছি। সরকারিভাবে আমরা তেমন কোন
সাহায্য সহযোগীতা পাই না। যানিনা কি হয়, তবে মাছ ভাল হলে সকল ঋণ পরিষোধ কওে ঘুড়ে
দাড়াতে পারবো। সুন্দরবনে জলদস্যু-বনদস্যুর উৎপাত ও মুক্তিপণ আদায়সহ আসাধু বনরক্ষীদের
দৌরাত্ম্য দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিলো এখন পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বন
বিভাগ আমাদেও নিরাপত্তা দিলে আমরাও লাভবান হবো, সরকারেও রাজস্ব বৃদ্ধি হবে। এছোড়া ঝড়-
জলোচ্ছাসের প্রাণহানী ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি মাথায় নিয়েই দুবলায় যাত্রা শুরু করি আমরা হাজার
হাজার জেলে। 
জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির মোংলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ মন্ডল বলেন, পাস পারমিট হাতে
পাওয়ার পর আজ রবিবার রাতে সকল জেলেরা সমুদ্রে দুবলার চরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, জেলেদেও সকল
প্রস্তুতি সম্পন্ন।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, বনবিভাগের কাছ
থেকে পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে নিজ নিজ এলাকা থেকে রওনা হয়ে জেলেদেরকে সরাসরি যেতে
হবে দুবলার চরে। চরে ঘর বাড়ি বা দোকান ঘর তৈরী করার জন্য সুন্দরবনের কোন গাছ কাঠ কাটুতে
পারবে না। যদি বনের কোন গাছ বা কাঠ ব্যাবহার করে তাকে কঠোর ভাবে আইনের আয়োতায়
এনে জেল জড়িমানা সহ অর্থ দন্ড করা হবে। গত শুঁটকির মৌসুমে দুবলার চর থেকে রাজস্ব
আদায় হয়েছিল সাড়ে ৬ কোটি টাকা কিছুু বেশী। এবার আবহাওয়া অনুুকুলে থাকলে
আমাদের সাড়ে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here