রাহাত আলী,মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধি:যশোরের মনিরামপুর উপজলোর চিনাটোলা ঋষি পল্লীর অন্ততঃ দেড়’শ পরিবারের প্রায়
হাজার খানেক মানুষ বাঁশ -বেত দিয়ে মোড়া তৈরী করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ
করছেন।মোড়া তৈরী বংশ-পরম্পরার পেশা।তাদের নিজস্ব কোন জমি-জমা নেই,মোড়া
তৈরীই তাদের জীবন-জীবিকার পথ,বেঁচে থাকার অবলম্বন।
মনিরামপুর উপজলোর চিনাটোলা গ্রামের বুক চিরে বয়ে গেছে হরিহর নদী। এই
নদীর তীর ঘেঁষে ঋষি পল্লীতে অন্ততঃ দেড়’শ পরবিারে প্রায় হাজার খানেক মানুষের
বসবাস। এই পল্লীর বাসিন্দাদের মূল পেশা হলো মোড়া তৈরী করা।মোড়া তৈরী তাদের
জীবন-জীবিকার মূল উৎস,ঁেচে থাকার অবলম্বন। র্পূবপুরুষের আদি এ পেশা
আঁকড়ে ধরেই স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে নিয়েছেন তারা।সরেজমিনে দেখা যায়,
প্রতি পরবিারের নারী-পুরুষ-এমনকি তাদের সস্তানরাও মোড়া তৈরীর কাজ
করছেন।গোবিন্দ দাস, নরেন দাস, অনিতা দাস ও শ্যামলী দাস সারবিদ্ধভাবে বসে
আপন মনে মোড়া তৈরি করছেন। কেউ বেতি দিয়ে মোড়া তৈরি শুরু করেছেন।
কেউবা মোড়ার ফিনিশিং কাজটা করছেন। তারা জানান বাঁশ (তল্লা), কট,বেতী,
সাইকেলের পুরাতন টায়ার, রং এর সংমশ্রিণে ছাউনি করে টায়ার আড়া ও কোমর
পেচে বাঁধাই করে বানানো প্রতি জোড়া মোড়া ৬০০ থেেক ১২০০ টাকায় বিক্রি
করে ১০০ থেেক ১৫০ টাকা লাভ হয়। এভাবে একজন দিনে ৩/৪টি মোড়া বানাতে
পারেন বলে ।‘তাদের তৈরীকৃত মোড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, বাংলাবান্ধা, পঞ্চগড়,
রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেেক পাইকাররা এসে কিনে নেন। আবার অনেক
সময় মনিরামপুর থেকেও তারা পাইকারদের কাছে পাঠিয়ে দেন। এমনকি বিদেশেও
যায়। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত র্পযন্ত এমন দৃশ্য দেখা যাবে যশোরের
মনিরামপুরের চিনাটোলার ঋষি পল্লীতে গেলে। গোবিন্দাস বলেন,বঁ^াশ-বেতের দাম
বেশী,প্লাষ্টিক এসে এ কেউ কিনতি চাই না,ব্যাচা-বিক্রি কমে গেছে।বাপ-দাদার
পিশা ছাড়তি পারি না,কোন রকম দু’মুঠো খাইয়ে পরে বাঁচে আছি। মোড়া
কারিগর গৃহবধূ অনিতা দাস (৩০) বলেন, ‘জমি-জুমা নেই, মোড়াই আমাগে
আশা ভরসা’।বাঁেচ থাহার একমাত্র পথ।মোড়া শিল্পীদের প্রতিবেশী কলেজ শিক্ষক
অধ্যাপক নারগিস পারভীন বলেন, মোড়া তৈরি করা তাদের শখ নয় বরং বেঁচে থাকার
একমাত্র অবলম্বন। তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা একান্ত
প্রয়োজন। মনিরামপুর মহিলা কলেজের অধ্যাপক রিপন আলী বলেন,সরকারিভাবে
অল্প লাভে ঋণ সহায়তা দিলে এ শিল্পের কারিগররা স্বাবলম্বী হবে এবং শিল্পটি
টিকে থাকবে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. রোকনুজ্জামান বলেন, মোড়া
তৈরীর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরি করে সমাজসেবা দপ্তরের
পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মনিরামপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন
অফিসার মোঃ রেজাউল হক বলেন, মোড়া তৈরীর সাথে সংশ্লিষ্টরা খুব দরিদ্র ও অসহায়
।যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হবে।
Home
যশোর স্পেশাল মনিরামপুরের মোড়া শিল্পীদের জীবন কথা মোড়া তৈরীই তাদের জীবন-জীবিকা,বেঁচে থাকার অবলম্বন















