রাহাত আলী,মনিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধিঃ ভালো নেই যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মৃৎশিল্পীরা।বছরের শীত মেীসুমে
মাটির কাজের কিছুটা চাহিদা থাকলে ও বছরের অন্য সময় বেকার বসে
থাকতে র্দীঘ সময়।শীতে যশোরের ঐতিহ্য খেজুর গাছের রস ও গুড়
সংগ্রহের জন্য মাটির হাড়ি বা কলসের চাহিদা থাকলেও আধৃনিকায়নের
যুগে এ শিল্পটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকে বাপ-দাদার ঐতিহ্য
ধরে রাখার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মৃৎশিল্প হলো প্রাচীন শিল্পকলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। মানবসভ্যতার ইতিহাসে
আদিকাল থেকে বংশানুক্রমে গড়ে ওঠা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প।
ক্রমবর্ধমান সভ্যতার ছোঁয়ায় অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের ব্যাপক
ব্যবহারের ফলে দিনদিন মৃৎশিল্পসামগ্রীর চাহিদা যেভাবে হ্রাস পাচ্ছে,
তাতে এই শিল্প বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। এই শিল্প এবং এই শিল্পের কারিগররা
এখন অসহায় ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
এ শিল্পের প্রধান উপকরণ মাটি হওয়ায় একে মৃৎশিল্প বলা হয়। এ জন্য মাটি
দিয়ে তৈরি সব শিল্পকর্মই মৃৎশিল্প। যাদের পেশা মাটি নিয়ে কাজ করা
তাদের কুমার আবার অনেককে পাল সম্প্রদায় বলা হয়।
১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত যশোরের মনিরামপুর
উপজেলা।এখানে প্রায় সাড়ে পাঁচলক্ষাধিক বিভিন্ন শ্রেনি -পেশার
মানুষের বসবাস খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়,অত্র উপজেলার ২৫৯টি
গ্রামের মধ্যে অন্ততঃ ৭২টি গ্রামে কমবেশী পালপাড়া(স্থানীয় ভাষায়
কুমারপাড়া)আছে ।এই পাড়ার অধিকাংশ মানুষ মৃৎশিল্পের সাথে
সংশ্লিষ্ট।
মনিরামপুর উপজেলার কুশারীকোনা গ্রামের মৃৎশিল্পী সুধীর পাল
(৫০)জানান, ‘মাটি দিয়ে জিনিসপত্র তৈরির জন্য যে মাটি ব্যবহার করা
হয় সেই মাটি পুকুর, ডোবা ও জমিন থেকে নিয়ে আসা হয়। এসব
মাটি দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের মাটির তৈজসপত্র। তার মধ্যে রয়েছে
হাঁড়ি-পাতিল, ফুলের টব, কড়াই, কাঁসাসহ বিভিন্ন মাটির
আসবাবপত্র। বর্তমানে এর চাহিদা ও বাজারমূল্য অনেক কম। আকারভেদে
হাঁড়ি ১০ থেকে ১০০ টাকা, ফুলের টব ৫ থেকে ৫০ টাকা, কড়াই ২৫
থেকে ৩০ টাকা। কোনো দিন ১০০ কোনো দিন ১৫০ টাকা আয় হয়।
এই আয় দিয়ে সংসার চলে না। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। তাই এর
পাশাপাশি ভ্যান চালিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকম সংসার
চালান।’
উপজেলার ভরতপুর গ্রামের মৃৎশিল্পী বাসন্তী রানী (৫০) বলেন, ‘জমিজমা
বলতে বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। সেই বিয়ের ত্রিশ বছর ধরেই
মাটির কাজ করেই টানা টানি করে সুংসার করছি। এ পিশা ছাড়ে কি
করবো ।আমাদের যে আর কোন উপায় নেই।
ওই গ্রামের আরেক মৃৎশিল্পী শিলা রানী বলেন,বছরের শীতকালে খেজুর
গাছের রস ধরার জন্য মাটির হাড়ি/পাত্র (স্থানীয় ভাষায় ভাঁড় বলে চাহিদার
কারনে মাটিরকাজে একটু ব্যন্ত সময় যায় ,তাছাড়া অন্য সময় মাটির
কাজের কোন চাহিদা নেই।
মধুপুর গ্রামের মৃৎশিল্পী সুকুমার পাল বলেন,জমি-জমা করে খাবো তা
নেই,বাপ-দাদার পিশা ছাড়তি পারি না।মাটির কাজ করে আটজন মানুষির
সংসার চালাতি ম্যালা কষ্ট হয়।
গাংড়া প্রামের বাসুদেব পাল বলেন,আগে মাটির আসবাবপত্র ভালোই
চাহিদা ছিল, সংসার ভালোই চলত। কিন্তু এখন চাহিদা কম,বাজারে
প্লাস্টিক এসে আমরা মার খাইয়ে গিছি। সংসার চালাতে হিমশিম
খেতে হয়।
মনিরামপু মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক নার্গিস পারভীন বলেন,
ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পীরা আমাদের গ্রাম বাঙলার ঐতিহ্যকে লালন করে
আসছে। বংশ পরম্পরায় তাদের এ পেশাকে আমাদের মূলায়ণ করতে
হবে।তারা হতদরিদ্র ।আবাদী জমি-জমা নেই বললেই চলে। মাটির কাজ
করেই তাদের জীবন জীবিকা চলে।শিল্প ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে
সরকারী ও বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।
উপজেলার খানপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে
যারা সাহায্যেরে জন্য আসে ,আমার ও পরিষদের পক্ধসঢ়;শ থেকে সাধ্য
মোতাবেক সহযোগিতা করা হয়।
মনিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ রোকনুজ্জামান
বলেন,মৃৎশিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট অনগ্রসর মানুষের জন্য অত্র দপ্তর থেকে
সহযোগিতার হাত বাড়ানো হবে।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন,বাঙ্গালী
সংস্কৃতির ধারক ও বাহক যত ঐতিহ্য আছে তার মধ্যে মৃৎশিল্প
একটি।ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকার বদ্ধপরিকর।এ বিষয়ে
সরকারী -বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা করে শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে।
Home
যশোর স্পেশাল এতে সুংসার চলে না,বাপ-দাদার পিশা কোন রহম ধরে রাহিছি পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের জীবনÑকথা















