ককটেল বিস্ফোরণ-এলাকা অশান্ত ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের আসাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ- আহত ২০

0
159

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি : যশোরের কেশবপুরের সুফলাকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা মৎস্য লীগের
সভাপতি এস এম মুনজুর রহমানের সমর্থিত লোকজন এবং ইউনিয়ন বিএনপির
সমর্থিতদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় এলাকা অশান্ত হয়ে উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যায়
সুফলাকাটি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন কলাগাছি বাজারে দু’পক্ষের মধ্যে রক্ষক্ষয়ি সংঘর্ষ
হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তঃত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্য থেকে ১০ জনকে
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে বিকট শব্দে কয়েকটি
ককটেলের বিস্ফোরণ হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন
করেন।
এলাকাবাসী জানায়, সম্প্রতি এলাকার একটি মাছের ঘেরের মালিকানা দাবি করে
চেয়ারম্যান এস এম মুনজুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমানের লোক জনের ভিতর সংঘর্ষ হয়।
পরবর্তীতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলাগাছি বাজারে চেয়ারম্যানের মাছের ফিডের
গোডাউন ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় কলাগাছি বাজারের পাশে একটি
কপি হাউজ আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সমস্ত ঘটনায় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা
অব্যাহত থাকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান এস এম মুনজুর রহমানকে ইউনিয়ন
পরিষদে আসতে দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে। চেয়ারম্যানের রুমে কে বা কারা
তালা ঝুলিয়ে রাখে।
সর্বশেষ গত বুধবার বিকেলে চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে তার লোকজনর নিয়ে ঢোকেন।
এর পর তার সঙ্গে আসা লোকজনদের উদ্দেশ্যে কথাবলার সময় কতিপয় যুবকেরা বাঁধার সৃষ্টি
করে। পরে সন্ধ্যায় তার সমর্থিত লোকজন ও বিএনপির সমর্থিতদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে
যায়। সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল্লাহ গাজী (২৫), ইউনিয়ন
ছাত্রদল নেতা তৌহিদুল ইসলাম (২০), ছাত্রদল নেতা রিয়াজুর রহমান (২৪), আড়ুয়া গ্রামের
বিএনপি নেতা আফসার মোড়ল (৫০), সারুটিয়া গ্রামের ইব্রাহিম খলিল (২৪), নূর
ইসলাম মোল্লা (৪৫), জালাল দফাদার, রোজিনা বেগম (৪০), কায়েমখোলা গ্রামের আব্দুল
মান্নান (৪৫) ও বেতিখোলা গ্রামের আব্দুল হামিদ শেখকে (৫০) আহত হন। আহত
অবস্থায় তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত অন্যরা
এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বিকট শব্দে
কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হলে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক
ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তে বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
সচেতন হলের অভিযোগ চেয়ারম্যান ও বিএনপির সমর্থিতদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যহত
থাকায় শান্ত এলাকা ধীরে ধীরে অশান্ত হয়ে উঠছে। যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা
ঘটে যেতে পারে।
সুফলাকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জি এম মহি উদ্দিন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান
মুনজুর রহমানের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরকে
আহত করে। এ সময় তার কলাগাছি বাজারের ব্যক্তিগত অফিস ভাংচুর করা হয়েছে।
চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন পরিষদে আসার ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে কোন বাঁধা সৃষ্টি
করা হয়নি। তাদের দলীয় ও অঙ্গ সহযোগি নেতা-কর্মীদের মারপিটে আহত করার ঘটনায়
থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
সুফলাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান এস এম মুনজুর বলেন, বুধবার বিকেলে তিনি তার
সমর্থিত লোকজন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তাদের উপর হামলা করা হয়। এতে তার
সমর্থিত ৫ থেকে ৬ জনকে আহত করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকেও থানায় অভিযোগ করা
হবে।
এদিকে সুফলাকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, একটি
মাছের ঘেরকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান মুনজুর রহমানের লোকজনের সঙ্গে প্রতিপক্ষদের মধ্যে
কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন,
সুফলাকাটি ইউনিয়নের কলাগাছি বাজারে ওই দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থল থেকে কাঁচের বোতলের কিছু টুকরা পাওয়া গেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হবে। #

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here