ভারত সীমান্ত ঘেষা শার্শার ইছামতী নদী থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার

0
149

জেলা প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে দুটি ও বিএসএফ’র নির্যাতনের শিকার নিহত যুবকের মরদেহ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার(১৮ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার পাঁচ ভুলাট ও পুটখালী সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে লাশ তিনটি উদ্ধার করে শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। মরদেহ গুলো হলো, বেনাপোল পোর্ট থানাধীন দিঘীর পাড় গ্রামের মৃত আরিফ হোসেনের ছেলে সাবু হোসেন(৩৫) , কাগজপুর গ্রামের মৃত ইউনুচ আলী মোড়লের ছেলে জাহাঙ্গীর(৩৬) ও শার্শা উপজেলার সাহাজাদপুর গ্রামের জামিল ঢালীর ছেলে সাকিবুল হাসান(২০)। এলাকাবাসীর দাবী নিহতরা ভারতে গরু আনতে গেলে ভারতীয় সীমান্ত রী বাহিনী(বিএসএফ) তাদের হত্যা করে বাংলাদেশ সীমান্তে ফেলে রেখে গেছে। পুলিশ জানায়,সকাল ৮টার দিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইছামতি নদীর পাড়ে ভান্ডারীর মোড় নামক স্থানে একটি লাশ উলঙ্গ অবস্থায় বাংলাদেশের সীমান্তে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে শার্শা থানার পুলিশ ও বিজিবির উপস্থিতিতে নদীর তীর থেকে লাশ উদ্ধার করে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে যশোর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে জানিয়েছে, সে গত রাতে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারত সীমান্তে গমন করেন এবং ধারণা করা যাচ্ছে, সে বিএসএফ’র হাতে আটক হয়ে মারপিটের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসার সময়ে মৃত্যু বরণ করে। একইদিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন দীঘীর পাড় গ্রামের মৃত আরিফ হোসেনের ছেলে সাবু হোসেন উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নে ইছামতি নদী সাঁতার দিয়ে ভারতীয় গরু পারা পারের জন্য ইন্ডিয়ান সীমান্তে গেলে বিএসএফ এর হাতে আটক হয়। বিএসএফ ভিকটিমকে মারপিট করে বস্ত্র বিহীন অবস্থায় বাংলাদেশে সীমান্তে রেখে চলে যায়। ভিকটিম নিজে আহত অবস্থায় নাসিরের আম বাগানে আসলে স্থানীয় লোকজন তার বাড়িতে খবর দিলে তার মা এবং বউ গিয়ে তাকে ভোর ৪টার সময় বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়ি এসে সাবু পানি খাওয়ার পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। এদিকে, একই দিন বিকাল ৩ টার দিকে একই গ্রামের কাদেরের মোড়ের নিচে চাঁদআলীর বাঁশবাগানের সামনে ইছামতী নদীর পাড়ে আরো একটি উলঙ্গ লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও বিজিবির একটি টিম এসে লাশটি উদ্ধার করে। সহকারী পুলিশ সুপার(নাভারণ সার্কেল) নিশাত আল নাহিয়ান ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,কি ভাবে তাদের মৃত্যু হলো আমরা তদন্ত করছি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।পরবর্তীতে হয়তো মৃত্যুর কারণ জানাতে পারবো বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here