মিশকাতুজ্জামান,নড়াইল:স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর নড়াইল থেকে শুরু হয়েছে স্বপ্নের রেলযাত্রা। খুলনা থেকে ছেড়ে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে ‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ নামের নতুন ট্রেনটি নড়াইল রেলস্টেশনে পৌছালে যাত্রী এবং রেলযাত্রা দেখতে আসা দর্শনার্থীদেও মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছাস তৈরি হয়। প্রথমদিনে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ থাকায় অনেকে অনেকে টিকিট পাননি।
নড়াইল রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে,সোমবার বাদে প্রতিদিন ট্রেন সিডিউল অনুযায়ী সকাল ৬ টায় খুলনা থেকে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস নাম নিয়ে ট্রেনটি ঢাকার উদ্যেশ্যে ছেড়ে যাবে। ট্রেনটি যশোরের সিঙ্গিয়া ও নড়াইল হয়ে সকাল পৌনে ১০ টায় ঢাকায় পৌছাবে। সকাল পৌনে ১১ টায় ঢাকা থেকে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস নামে বেনাপোলের উদ্যেশ্যে যাত্রা শুরু করবে এবং নড়াইল ও যশোর জংশন হয়ে দুপুর আড়াইটায় বেনাপোল পৌছাবে। রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস বিকেল সাড়ে ৩টায় বেনাপোল থেকে যাত্রা করে নড়াইল হয়ে সন্ধ্যা ৭ টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌছাবে। এরপর ট্রেনটি জাহানাবাদ এক্সপ্রেস নাম নিয়ে ঢাকা থেকে রাত ৮ টায় যাত্রা শুরু করে নড়াইল ও যশোরের সিঙ্গয়া জংশন হয়ে রাত ১১ টা ৪০ মিনিটে খুলনায় পৌছাবে। এই রেলযাত্রার মধ্যদিয়ে নড়াইল থেকে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হলো। যাত্রী সাধারণের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে বলে প্রত্যাশা করছেন সবাই।
শহরের দূর্গাপুর এলাকার আল আমিন বলেন,রেলপথে যুক্ত হলো নড়াইল জেলা। এই দিনটিতে স্মরণীয় করে রাখতে ঢাকায় যাচ্ছি। খুব ভালো লাগছে। এখন নড়াইল থেকে আমরা সহজে ঢাকা,খুলনা, যশোর,বেনাপোল যেতে পারব।
নড়াইলের আমাদা গ্রামের পলাশ মৃধা বলেন,নড়াইল স্টেশনে যাত্রীর এতো চাপ ছিল যে প্রথমদিনে টিকিট পাইনি। দাঁড়িয়ে যাওয়ার মতোও কোনো টিকিট ছিল না। তবু আনন্দিত,নড়াইল থেকে স্বপ্নের রেলযাত্রা শুরু হলো।
পদ্মা সেতু হয়ে নতুন রেলপথ নির্মাণের ফলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব ২১২ কিলোমিটার কমে গেছে। এই পথে ঢাকা থেকে খুলনায় যাওয়া যাবে পৌনে ৪ ঘণ্টায়। আর নড়াইল থেকে ঢাকায় পৌঁছানো যাবে মাত্র দুই ঘণ্টায়। নড়াইল রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন,‘এই ট্রেন ঢাকা-খুলনা পথে ‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ নামে এবং ঢাকা-বেনাপোল পথে ‘রূপসী বাংলা’ নামে দু’টি কোচ নিয়মিত চলাচল করবে।’















