মুরাদ হোসেন, মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে : গত (২৩ ডিসেম্বর) এম ডি আল বাখেরা নামক একটি সার বোঝায় জাহাজ মেঘনা নদীর
চাঁদপুর জেলার হরিনাঘাট এলাকায় পৌছালে ভয়াবহ খুনের ঘটনা ঘটে। এ সময় জাহাজে থাকা
সাতজন শ্রমিককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে খুনিরা। এটা ডাকাতি নয় পরিকল্পিত খুন
বলে দাবী করেন নিহতের পরিবারের লোকজন। নিহত সাতজনের মধ্যে মহম্মদপুরের তিনজন যুবক।
পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়ন ও গ্রামের দাউদ মোল্যার ছেলে সজিবুল ইসলাম ও আবেদ আলীর ছেলে
সালাহউদ্দীন। অন্যজন একই ইউনিয়নের চর যশোবন্তপুর গ্রামের আনিস মোল্যার ছেলে মাজেদুল
ইসলাম।
ছেলের নির্মম মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছেন নিহত সজিবুলের
বাবা দাউদ মোল্যা। ছেলের হৃদয় বিদারক হত্যাকান্ডের মৃত্যুর শোকে ট্রোকে বাবার এমন মৃত্যু
হয়েছে বলে জানাযায়। এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্য
ও স্বজনদের কান্না এবং আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে নিহতের
বাড়ী গিয়ে পরিবারের লোকজন ও স্বজনদের হৃদয় বিদারক কান্না আর আহাজারি দেখতে পাওয়া
যায়।
ছেলে সজীবুলের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই কাঁদতে কাঁদতে বারবার মুর্ছা যেতে থাকেন
বাবা মো: দাউদ মোল্লা। স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে নানা ভাবে সান্ত¦না দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ছেলের শোকে তিনি চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে
বাড়িতেই স্ট্রোকে মারা যান তিনি।
সরেজমিনে শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখাগেছে, পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের কান্নার রোল এবং
আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। পরিবারের চলছে শোকের মাতম। প্রতিবেশি ও আগত
শ’ শ’ মানুষও শোকে কাতর হয়ে পড়েন। সজিবুল ইসলামের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শোকে
পাগলপ্রায়। কেউ কেউ মুর্চ্ছা যাচ্ছেন। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য।
মা ছেলে ও স্বামীকে হারিয়ে, স্ত্রী স্বামী সজিবুলকে হারিয়ে এবং স্বজনেরা স্বজন হারিয়ে
বাবরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম। এ পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সান্তনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাবার মত নয়।
নিহত সজিবুলের বড়ভাই রকিবুল ইসলাম বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যা। আমার ভাইকে পরিকল্পনা করে
হত্যা করা হয়েছে। জাহাজের কর্মচারী আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফান নামে এক জনকে আটক করেছে
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব। এটাও সাজানো বলে মনে হচ্ছে আমাদের। আমরা মামলা করার
সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর সঠিক তদন্তপূর্বক ব্যাবস্থার দাবী জানাই।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রক্তাক্ত দেহগুলো জাহাজের কর্মীদের ঘুমানোর কক্ষগুলোতে পড়ে ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। কারো কারো
মাথায় গভীর ক্ষত দেখা গেছে। কারো কারো ছিল গলা কাটা। শরীরের অন্যান্য স্থানেও আঘাত ছিল।















