চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি ॥ নিজ নামের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয় আওয়ামীলীগের
সন্ত্রাসীরা।জমি হারানোর শোকে দুইভাই ও তাদের দুই স্ত্রী
পর্যাত্রুমে জমির শোকে মারা যান। তারা পৃথিবীতে না থাকলেও
জমি ফেরত পেয়েছেন তাদের সন্তানরা। সন্ত্রাসীদের দখল করা ৩২
শতক জমি দীর্ঘ ১৫ বছর পর এলাকাবাসীর সহযোগীতায় ফেরত
পেলেন অসহায় কৃষক পরিবারের সদস্যরা। জমি ফেরত পেয়ে
গোটা পরিবার জুড়ে চলছে আনন্দের জোয়ার। ঘটনাটি যশোর
সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ঘোনা গ্রামের।
জানা যায়, ঘোনা গ্রামের অসহায় কৃষক মুনছুর আলী ও তার
ভাই আমজেদ আলীর নামে ১১৪ নং মৌজায় ১৪৩ খতিয়ানে ৩২
শতক জমি আছে। তারা সহজ সরল হওয়াই একই গ্রামের
আওয়ামীলীগের নেতা শফিয়ার রহমান তাদের জমি দখল করতে মরিয়া
হয়ে উঠেন। শফিয়ার রহমান ২০০৯ সালে তাদের জমি জোর পূর্বক
দখল করে নেন। শফিযার যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি
মেহেদী হাসান মিন্টুকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে তাদের
নেতৃত্বে উক্ত জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়।মূলত মিন্টুর
কারণে মামলা করতেও সাহস পায়নি তখন অসহায়
পরিবারটি।জমি হারানোর পর থেকেই জমির শোকে বিছানায়
পড়ে মুনছুর আলী ও তার ভাই আমজেদসহ তাদের দু’ভাইয়ের স্ত্রী।
ধীরে ধীরে তারা ৪ জনই মারা যান।এলাকাবাসী আওয়ামীলীগ
ক্ষমতায় থাকার কারণে তখন কিছু করতে না পারলেও দীর্ঘ ১৫ বছর
পর অবশেষে সেই জমি বুঝে দেন অসহায় পরিবারের সদস্যদের
মাঝে।
জমির মালিক মুনছুর আলীর ছেলে ইদ্রিস আলী জানান,
জোরপূর্বক জমি দখল করে নেওয়ার পর জমি হারানোর শোকে
আমার পিতা, মাতা ও আমার চাচা আমজেদ আলী ও চাচি স্টেক
করে মারা যায়। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে
আমরা আমাদের জমিতে যেতে পারতাম না। তিনি আরো জানান,
আওয়ামীলীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতের পর এলাকাবাসী আমাদের
জমি বুঝে দেন। কিন্তু একটি পক্ষ এখনো আমাদের জমি
জোরপূর্বক দখলের পায়তারা করছে।
গ্রামের প্রবীন এক ব্যক্তি জানান,মুনছুর আলীর জমি ক্ষমতার
জোরে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরো জোর পূর্বক দখল করে নেওয়ার
কারণে অসহায় দুটি ভাই ও তাদের স্ত্রী জমির শোকে মারা
যায়।বর্তমানে গ্রামবাসী জোটবদ্ধ হয়ে অসহায় পরিবারের
জমি বুঝে দেওয়া হয়েছে।তিনি আরো বলেন, জমি ফেরত পেলেও
দেখে যেতে পারলেন না মুনছুর ও আমজেদ আলী।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শফিয়ার রহমান জানান,২৭ ও ৬২ রের্কড
আমার পিতার নামে আছে। কিন্তু উক্ত জমি জোরপূর্বক না
নিয়ম অনুযায়ী আমরা দখল করে ভোগ দখল করে আসছি।এখানে
জোরপূর্বক দখলের ঘটনা কখনো ঘটিনি।বর্তমানে উক্ত জমি
নিয়ে দু’পক্ষের মামলা চলছে।















