হেলাল উদ্দিন : যশোরর মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ও কৃষি
জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। এসব ইটভাটাগুলো রাস্তার ধারে হওয়ায় পরিবেশের
মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এযেনো দেখার কেউ নেই। খোঁজখবর নিয়ে জানাগেছে- রাজগঞ্জ অঞ্চলের
খেদাপাড়া, রোহিতা, হরিহরনগর, ঝাঁপা, চালুয়াহাটি ও মশি^মনগর ইউনিয়নে প্রায় ১০টি
ইটভাটা রয়েছে। যা সবগুলোই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতিপত্র বাদেই চলছে। এসব ভাটাগুলোর
আশপাশে বসবাসরত পরিবারগুলো চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। তারা, তাদের কৃষি জমির ফসল
নিয়েও চিন্তিত আছে। জানাগেছে- রাজগঞ্জ অঞলের চালু সবগুলো ইটভাটায় উৎপাদন শুরু হয়েছে
পুরোদমে। চলছে বেচাবিক্রিও। সূত্রে জানা গেছে- হরিহরনগর ইউনিয়নের এনায়েতপুর বাজারের
পাশে রয়েছে সসতা ইটভাটা, ঝাঁপা ইউনিয়নের ষোলখাদা বাজার মোড়ে রয়েছে একতা
ইটভাটা, মল্লিকপুরে রয়েছে বিশ^াস ইটভাটা, রোহিতা ইউনিয়নের পলাশী মোড়ে ও ভান্ডারী
মোড়ে পরপর দুইটা ইটভাটা রয়েছে, চালুয়াহাটি ইউনিয়নের শাহপুর কৃষি জমির ভিতরে রয়েছে
গোল্ড ইটভাটা, মশি^মনগর ইউনিয়নের বেলতলা বাজারের পাশে রয়েছে একটি ইটভাটা। এছাড়া
খেদাপাড়া ইউনিয়নে কয়েকটি ইটভাটা রয়েছে। যা সবগুলোই রমরমাভাবে চলছে। এসব
ভাটাগুলোতে কৃষি জমির উপরের অংশের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ
আইন ২০১৩-এর ৮(১)তে বলা আছে, কৃষি জমিতে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। শুধু
তাই নয়, ওই আইনের ৩(ক)তে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমারেখার (ফসলি জমি) এক
কিলোমিটারের মধ্যেও কোনো ইটভাটা করা যাবে না। এআইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই
রাজগঞ্জ অঞ্চলে অবৈধ ইটভাটা গড়ে উঠেছে। একটি বিশ^স্ত সূত্রে জানাগেছে- চলতি বছর
মণিরামপুর উপজেলার কোনো ইটভাটা মালিক, ইটভাটার কার্যক্রম চালানোর জন্য পরিবেশ দপ্তরের
ছাড়পত্র পাইনি। তারপরেও আইনের তোয়াক্কা না করে ভাটার কার্যক্রম পুরোদমে চালাচ্ছেন।
এলাকাবাসীরা জানান- জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ও কৃষি জমিতে প্রতিটি ভাটা স্থাপনকালে
জনগন বাধা প্রদান করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাটা মালিকরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই স্থাপন করে
অবৈধ ইটভাটা। দেখা গেছে- প্রতিটি ভাটার পাশে কৃষি জমির মাটি (উপরের অংশ) কেটে
বিশাল স্তুপ করে রাখা হয়েছে। ভাটার ট্রাক্টরে করে প্রতিনিয়ত কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে
বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভাটায়। এতে নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমি ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট। ভাটার
কালো ধোয়ার প্রভাবে দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলের উৎপাদন। ঘটছে পরিবেশের বিপর্যয়। বাড়ছে
স্বাস্থ্যঝুঁকি। প্রশাসনের নীরাবতায় ভাটা মালিকরা আইন না মেনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ
ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্নার অফিসিয়াল মোবাইল ফোনে
যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। যে কারনে বক্তব্য নেওয়া সম্ভাব হয়নি।















