ফুলের বাগান করা স্কুল শিক্ষকের নেশা…….বাড়ির ছাদে দৃষ্টিনন্দন ফুল বাগান

0
322

রাহাত আলী,মনিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধিঃ বাড়ির ছাদে দৃষ্টিনন্দন এক বাগান। সেখানে আছে নানা প্রজাতির
ফুলগাছ। সকাল, বিকাল কিংবা রাত, প্রতিনিয়ত মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে।
অনেকটা শখের বশে বসতবাড়ির ছাদে দৃষ্টিনন্দন এই বাগান গড়ে
তুলেছেন শিক্ষক প
সুভাষ বিশ^াস। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মনিরামপুর সদর
ইউনিয়নের বাকোশপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক
তিনি।
ছোটবেলার শখ
পেশায় শিক্ষক হলেও ছোটবেলা থেকেই বাগান করার শখ ছিল শিক্ষক
সুভাষ বিশ^াসের। পেশাগত ও সাংসারিক ব্যস্ততার মাঝেও নিয়ম করে
বাগানে সময় দেন তিনি। শখ এক পর্যায়ে নেশাতে পরিনত হয়ে যায়
তাঁর। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ফুল বাগান নিয়ে। সময় পেলেই বাগানের
কাজে লেগে যান তিনি। স্কুল বন্ধ হলে তো কথায় নেই। বৃদ্ধি পেতে
থাকে বাগানে গাছের সংখ্যা। নিজ হাতে বাগানের প্রতিটি টবের
পরিচর্যা করেন। তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিখে নিয়েছেন
বাগান পরিচর্যার খুঁটিনাটি। শিক্ষক সুভাষ বলেন, ‘গাছ
লাগানো আমার শখ। ছোটবেলা থেকেই আমি নানা প্রজাতির
ফুলগাছ সংগ্রহ করে বাড়ির আশপাশে রোপণ করতাম। ইউটিউব
দেখে চন্দ্র মল্লিকা ফুলের প্রতি বেশী আসক্ত হই,সংগ্রহ করি কয়েক
প্রজাতির চন্দ্র মল্লিকা ফুলের চারা।
ছাদবাগান এখন বৃক্ষের সংগ্রহশালা
সুভাষ স্যারের শখের বাগান ছাদ পেরিয়ে এখন বাড়ির আশপাশের
বাড়ী ও জমিতে শোভাবর্ধক নার্সারিতে রূপ নিয়েছে। অনলাইনে ও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ যাচাই
করে দেশের বিভিন্ন নার্সারি থেকে নানা জাতের ফুলের চারা
সংগ্রহ করে বাগানকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে তুলছেন তিনি। তার
সংগ্রহে বিভিন্ন প্রকারের শোভাবর্ধনকারী, ফুল ও শাক-সবজিসহ
সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রজাতির সহস্রাধিক উদ্ভিদ
রয়েছে।
স্ত্রী-সন্তানদের সহযোগিতা
ছাদবাগানের সামগ্রিক কাজে সহযোগিতা করেন সুভাষের স্ত্রী
রীনা রানী। এছাড়া ছেলেমেয়েরাও মাঝে মধ্যে তাকে বাগানের কাজে
সহযোগিতা করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের সহযোগিতায় ক্রমেই আরও
সমৃদ্ধ হচ্ছে বাগান। সুভাষ বিশ^াস বলেন, ছোটবেলা থেকে ফুল
বাগান করার শখ থাকলেও ১৯৯১ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের পর
থেকে বাগান করার শখ আমার নেশা হয়ে ওঠে। তখন থেকেই আমি
কোথাও গেলে নতুন ফুলের গাছ দেখলে সংগ্রহ করতাম। স্ত্রী ও
সন্তানদের সহযোগিতা আমার এই পথচলাকে সহজ করে দিয়েছে।’
রোধ হচ্ছে দূষণ
সুভাষ বিশ^াস বলেন, ছাদবাগানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ফেলে দেওয়া
প্লাস্টিক বা টিনের পাত্রকে প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন আকারের টব
বানানো হয় তার বাগানে। ছাদবাগানের জন্য জৈবসার নিজেই
প্রস্তুত করেন। তিনি বলেন, ‘ফুলের বাগান বড় হতে থাকায় আমার
মাথায় একটা আইডিয়া আসে। টাকা খরচ করে এতগুলো টব কেনার
পরিবর্তে আমি সাংসারিক প্লাস্টিকের বিভিন্ন বর্জ্য ব্যবহার শুরু
করি। প্লাস্টিকের বোতল, ঝুড়ির মতো ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের বর্জ্য
আমি ফুলের টব হিসেবে ব্যবহার করি। এতে একদিকে যেমন
আঙিনা পরিষ্কার থাকে, তেমনি পরিবেশ দূষণও অনেক কমে
আসে।’
প্রশিক্ষণ দেন বিনামূল্যে
সুভাষ বিশ^াস বাগান তৈরিতে আগ্রহীদের মাঝে তিনি
বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শও প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘বাগান
তৈরিতে আগ্রহীদের জন্য আমি বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
করেছি। আমি চাই সবার বাসায় গড়ে ওঠুক এমন ছাদবাগান। এতে
করে পরিবেশদূষণ কমবে এবং বৃদ্ধি পাবে সামাজিক বনায়ন।’
ভবিষ্যৎ ইচ্ছা
সুভাষ বিশ^াস অল্প জায়গায় সুন্দর বাগান তৈরির গবেষণা করছেন।
তিনি বলেন, ‘শখের বাগানকে ছড়িয়ে দিতে চাই সবার মাঝে।
সবাই যেন বাগান তৈরি করতে পারে সে জন্য আমার ব্যক্তিগত গবেষণা
চলমান রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here