চৌগাছায় বাওড় নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১০জন আহত, বিদেশী পিস্তল ও মোটরসাইকেল উদ্ধার

0
194

রায়হান হোসেন, চৌগাছা পৌর প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছায় বাওড় নিয়ে সংঘর্ষে দুইপক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে একরাউন্ড গুলিসহ পরিত্যক্ত একটি বিদেশী পিস্তল ও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন চৌগাছা পৌর এলাকার হুদোপাড়া গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে শরিফুল (৩০), রবিউল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩০), চাদপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলাম (৩২) পৌরসভার বিশ্বাসপাড়ার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে উজ্জল হোসেন (৪০), কুঠিপাড়ার মৃত মশিয়ার রহমানের ছেলে গোলাম মোস্তফা(৬০), কারিগরপাড়ার তাইজুল ইসলামের ছেলে আব্দুস সামাদ (৫৫) ও যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের জহুর আলী ছেলে কালাম হোসেন (৫৭)। এদের মধ্যে আবুল কালামের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এবং শরিফুল ইসলাম ও বাকি ৬জন চৌগাছা উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যান্যরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বেড়গোবিন্দপুর বাওড়টি উপজেলা মৎসজীবী লীগের সভাপতি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সরকারি ইজারার মাধ্যমে চাষ করে আসছিল। ৫ আগষ্টে ফ্যাসিবাদি সরকারের পতনের পরে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন ও চৌগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিমকে ২০% লভ্যাংশ প্রদান করার শর্তে মাছ চাষ করেন আবুল কাশেম। সম্প্রতি আবুল কাশেম যশোর জেলা বিএনপি নেতা কালাম হোসেনের কাছে বাওড়ের ২০% শেয়ার বিক্রি করে দেন। শুক্রবার যশোরের কালামের নেতৃত্বে চৌগাছা বিএনপির এক পক্ষের ২০/২৫ জনকে সাথে নিয়ে মাছ ধরতে যায়। এতে সালাউদ্দীন ও আব্দুর রহিমের লোকজন বাধা দেয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে চৌগাছা থানার পুলিশ পৌছালে দুই পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, একটি পালসার ১৫০ সিসি (যার রেজিষ্ট্রেশন নং যশোর ল ১৫-৬৩৯০) এবং একটি এফ জেট ১৬০ সিসি (যার নং যশোর ল ১৫-২৩৪৪) এই মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধার করে। এসময় স্থানীয়দের সহযোগীতায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, ৫ আগষ্টের পরে বাওড়ের মাছ টিকিয়ে রাখতে প্রথমে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সালাউদ্দীন ও চৌগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিমকে একটি চুক্তির মাধ্যমে সাময়িক সময়ের জন্য বাওড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে বাওড় সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি নেতা কালামের কাছে বাওড়ের ২০% শেয়ার ৬০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বলেন, বিএনপি দল কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের সমর্থন করবে না। তিনি আরো বলেন, যারা অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত তাদের ব্যাপারে জেলায় জানানো হবে। দল তাদের ব্যাপারে সিন্ধান্ত নেবে।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে মারামারি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here