নির্মাণের অপেক্ষায় নতুন ৬ জেটি, আরও বড় হচ্ছে মোংলা বন্দর

0
178

মাসুদ রানা , মোংলা : মোংলা বন্দর উন্নয়নে নির্মিত হচ্ছে নতুন আরও ৬টি জেটি। যার মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর জেটি নির্মাণ কাজ ৬২ শতাংশ শেষ হয়েছে। এই দুটি জেটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৮’শ কোটি টাকা। আর ১ ও ২ নম্বর জেটি নির্মাণে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া ১১ ও ১২ নম্বর জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে এসব জেটিগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেলে মোংলা বন্দর বড় অর্থনৈতিক হাব হবে বলে জানিয়েছেন মোংলা বন্দরের জেটি নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সদস্য ( হারবার ও মেরিন) কমডোর শফিকুল ইসলাম সরকার।
বন্দরের সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, তিন দশকের পুরানো ও ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন যন্ত্রপাতি দিয়ে চলছিল মোংলা বন্দরের কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং। পদ্মা সেতুর পর এই বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে সংযোযন হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। ভৌগলিক দিকে দিয়ে মোংলা বন্দর কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত। বাংলাদেশের সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, নেপাল, ভূটান ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর এ বন্দরের মাধ্যমে মালামাল পরিবহণ হয়। এক পর্যায়ে এ বন্দরের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এর সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ৬টি জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এর মধ্যে ৮’শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর জেটির কাজ শেষ হয়েছে ৬২ শতাংশ। এছাড়া ১ ও ২ নম্বর জেটি নির্মাণে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি বা একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আর ১১ ও ১২ নম্বর জেটি নির্মাণের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। জেটিগুলো পুরোপুরি নির্মাণ হলে বন্দরের আমদানি-রফতানি বানিজ্যে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের কাজে গতি পাবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ও মশিউর রহমান বলেন, মোংলা বন্দর ইতোমধ্যে একটা গতি পেয়েছে। এখন এই বন্দরে যদি জেটির সংখ্যা বাড়ানো হয়, তাহলে জাহাজ চলাচল এবং পণ্য হ্যান্ডলিং পরিমান বাড়বে। এতে একদিকে যেমন বন্দর অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হওয়া যাবে অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও এই বন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরণের পন্য সহজেই খালাস করা যাবে। এছাড়া বন্দরে পণ্য ওঠা-নামার ক্ষেত্রে যে জটিলতা দেখা দেয় সেটি কমে আসবে এবং বন্দরের সক্ষমতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। চট্রগ্রাম বন্দরের ওপর যদি চাপ কমাতে হয় তাহলে মোংলা বন্দরকে আরও আধুনিকায়ন করাসহ বন্দরের জনবলও বাড়াতে হবে বলে জানান এই ব্যবসায়ীরা।
এদিকে নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর জেটিসহ মোটি ৬টি জেটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা আরও কয়েকগুন বাড়বে। এছাড়া পণ্যের চাপ সামলানো এবং আর্ন্তজাতিকভাবে এর প্রসারও ঘটবে বলে মনে করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) এবং জেটি নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক কমডোর মোঃ শফিকুল ইসলাম সরকার জানান, নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর জেটির কাজ আগামী দেড় বছরের মধ্যে শেষ হবে। এই দুটি জেটির নির্মাণ কাজ এরই মধ্যে ৬২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ১ ও ২ নম্বর জেটি নির্মাণের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সাথে ১১ ও ১২ নম্বর নামে আরও দুটি জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই ৬টি জেটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে মোংলা বন্দরে সার্বিক কার্যক্রমে গতিশীল হবে। বন্দরে মাঝে মাঝে যে জট হয়, সেটি থাকবেনা। কন্টেইনার এবং অন্যান্য কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।
মোংলা বন্দর যাত্রা শুরুর পর ৫ থেকে ৯ নম্বর জেটি নামে মোট ৫টি জেটি তৈরি আছে। যা বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন আরও ৬ টি জেটি যুক্ত হলে এই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে পণ্য আমদানি-রফতানিতে খরচ অনেকটা কমে আসা ছাড়াও বিশে^র কাছে এই বন্দর ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে মনে করেন বন্দরের পদস্থ কর্মকর্তা কমডোর মোঃ শফিকুল ইসলাম সরকার।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে বন্দরের চারটি প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে পশুর চ্যানেলের ইনার বারে (জেটি-সংলগ্ন) ড্রেজিং শেষ হলে বন্দরের জেটিতে ১০ মিটার পর্যন্ত ড্রাফটের (গভীরতা) জাহাজ হ্যান্ডলিং সুবিধা তৈরি হবে। এ ছাড়া ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট প্রকল্প’-এর মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এই প্রকল্প শেষ হলে বছরে এক কোটি ৫০ লাখ টন কার্গো, চার লাখ টিইইউজ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা তৈরি হবে। এ ছাড়া বন্দরে চলমান দুটি জেটির নির্মাণকাজ শেষ হলে বছরে আরও দুই লাখ টিইইউজ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
শাহীন রহমান আরও জানান, বন্দর এখন আগের চেয়ে আরও গতিশীল হয়েছে। কনটেইনারবাহী জাহাজের আগমন বেড়েছে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ আগমনে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ, কার্গো পরিবহনে ৯ দশমিক ৭২ ভাগ, কনটেইনার পরিবহনে ১৬ দশমিক ৭৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ ছাড়া এই বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here