যশোরে যুবলীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান টৃটুলের হাতে অপর যুবলীগ নেতা হানিফ খুন

0
227

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে গুলিবিদ্ধ যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফ (৫০) মারা গেছে। নিহত হানিফ যশোর সদরের ফতেপুর ইউনিয়নের তারাগঞ্জ গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিনগত ভোর রাতের দিকে হানিফের মৃত্যূ ঘটে। নিহত হানিফের পরিবারের দাবি যুবলীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান টুটুলের পিস্তলের গুলিতেই হানিফের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী শিরিন বাদী হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান টুটুলসহ ৪ জনকে আসামী করে যশোর কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে থানার অফিসার ইনচার্জ জানান। পুলিশ টুটুলকে খুজছে। ঘটনার পর থেকে টুটুল পলাতক।
সূত্র বলছে, গত বুধবার দিনগত রাতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা টুটুল নিজের ইটভাটায় মধ্যপ অবস্থায় বেসামাল হয়ে বন্ধু হানিফকে নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি করে। গুরুতর অবস্থায় ওই রাতেই তাকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোর রাতের দিকে তিনি মারা যান। আজ শুক্রবার সকালে তার লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আনা হয়। সেখানে পোষ্ট মর্টেম করার পর লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হানিফের স্ত্রী শিরিন জানান, ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর রাতেই হানিফের বড় একটি অপারেশন করা হয়। বুধবার রাত ২টার দিকে হানিফ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তিনি জানান, বুধবার রাত ১০ টার দিকে বন্ধু টুটুল ফোনে হানিফকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তার ইটভাটায় নিয়ে যায়। সেখানে তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে মদ পান করে। এক পর্যায়ে মাতাল হয়ে টুটুল তার পিস্তল হাতে মাতলামী করতে শুরু করে। সে সময় অসাবধানতাবশত টুটুলের হাতের পিস্তল থেকে গুলি বের হয়ে হানিফের বুকের পাজড়ে আঘাত করে। মুহুর্তে হানিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে অন্যদের সহায়তায় টুটুল তার গাড়িতে করে হানিফকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পালিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা হানিফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ভোর ৪ টার দিকে হানিফের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ কাজী বাবুল বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের বিষয়ে পুলিশী অভিযান শুরু হয়েছে।। তিনি আরো বলেন, এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেছে চেয়ারম্যান টুটুলকে আটক করলেই হত্যার রহস্য বের করা সম্ভব হবে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক উজ্জল বলেন, গত বুধবার গভীর রাতে হানিফকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম টুটুল। গুলিবিদ্ধ আহত অবস্থায় হানিফকে জরুরী বিভাগে রেখেই টুটৃল চলে যান। এসময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন গুলিবিদ্ধ হানিফ। যশোর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তিনি মারা যান।######

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here