ক্ষতির মুখে চৌগাছার পেঁয়াজ চাষিরা

0
167

রায়হান হোসেন, চৌগাছা পৌর প্রতিনিধি : কয়েক মাস ধরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল অনেক বেশি। এ কারণে যশোরের চৌগাছার প্রান্তিক কৃষকেরা লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। নতুন পেঁয়াজ ওঠার পর বাজারে আশঙ্কাজনকভাবে দর পতন হয়েছে। এতে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হচ্ছে চাষিদের।
চাষিরা জানান, সারা বছর পেঁয়াজের দাম ছিল। যখন কৃষকেরা পেঁয়াজ চাষে গুরুত্ব দিতে শুরু করলেন, ঠিক তখনই পেঁয়াজের বাজার পড়ে গেল। সরকারকে অবশ্যই পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। তা না হলে আগামী বছর আর কেউ পেঁয়াজ চাষ করতে আগ্রহী হবেন না।
চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩’শ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর। যা টার্গেটের চেয়ে দ্বিগুন।
উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অল্পকিছদিন আগেও এক কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ১৫০ টাকা। শহরের প্রত্যেকটা বাজারে নতুন পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে ৪৫/৫০ টাকা কেজি, পাইকারি বাজারে ৩০/৩২ টাকা দরে কেনাবেচা চলছে।
কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, পাইকারি ও খুচরা কেনাবেচাতে ৫ থেকে ১০ টাকার পার্থক্য থাকে। যদিও পাইকারি ও খুচরা বাজারে এই পার্থক্য ১৫/২০ টাকা।
কৃষকরা বলছেন, পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যয়, বাজারমূল্যের অস্থিরতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যই এই লোকসানের প্রধান কারণ। এসব কারণে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন কৃষকরা। কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। চৌগাছা উপজেলার অধিকাংশ কৃষক জানিয়েছেন, জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক এবং শ্রমিক খরচ মিলে এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে যা খরচ হয়েছে, তার অর্ধেক দামেও পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছেন না তারা।
সদর ইউনিয়নের বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আবদার আলী ও আব্দুস সামাদ বলেন, চলতি বছরে দুই বিঘা জমিতে পেয়াজ চাষ করেছেন। বীজের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম পড়ে গেছে। লোকসানের হিসাব দিতে গিয়ে তারা বলেন, মজুরি, সার ও কীটনাশক, বীজ কেনা দিয়ে বিঘাপ্রতি মোট ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। একবিঘা জমিতে উৎপদন হবে ৪০/৪৫ মণ পেঁয়াজ। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৪৮/৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে দুই বিঘা জমিতে ক্ষতি হবে ৭০/৮০ হাজার টাকা।
আড়ৎদার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সরকারের উচিৎ স্থানীয়ভাবে কোল্ড স্টোর স্থাপন করে মৌসুমে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। তাহলে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বেনা। অন্যথায় চাষিরা পেঁয়াজ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।
পাইকারি ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, দেশের প্রত্যেক অঞ্চলেই কিছু না কিছু পেয়াজ উৎপাদন হয়েছে। বাজারে ক্রেতা কম থাকায় মোকামেও পেয়াজের চাহিদাও কমে গেছে। যে কারনে দাম কমেছে। পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারলে ভালো লাভ করা সম্ভব বলে মনে করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন। তিনি বলেন, স্থানীয় পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here