0
176

যশোর অফিস : মৎস্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী বলেছেন, আমাদের সীমিত সম্পদ, কিন্তু সেই অনুযায়ী মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। আর সেকারণেই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমরা বর্তমানে যে উৎপাদন তা থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, শেরপুর, ঢাকা, চাঁদপুর, পঞ্চগড় ও নারায়ণগঞ্জ বাদে ৫৬ জেলার ১০৮ উপজেলায় ১১৩ সরকারি মৎস্যখামারে আধুনিকায়ন করা হবে।
বুধবার দুপুরে যশোর মৎস্য অধিদফতরের আয়োজনে
“বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামারসমূহের সক্ষমতা ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়)” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।যশোরের একটি কনভেনশন জেলা পর্যায়ে এটিই প্রথম আঞ্চলিক কর্মশালা।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এই প্রকল্পের পরিচালক মো. মশিউর রহমান।
তিনি জানান, সরকারি মৎস্য খামার আধুনিকীকরণ এবং প্রকল্প এলাকার মাছের উৎপাদন ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খামারে উন্নত মৎস্য প্রযুক্তি স্থাপন, উন্নত কৌলিতাত্ত্বিক গুণসম্পন্ন প্রজননক্ষম মাছ সংরক্ষণ এবং মৎস্য খামারে নিয়োজিত জনবলের কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে দক্ষতা উন্নয়ন হচ্ছে এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্য অধিদফতরের ৩১টি খামার সংস্কার ও সেইসব খামারের একটি করে পুকুর নিবিড় চাষের নিমিত্তে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা হবে। এর ফলে খামারসমূহে মাছের উৎপাদনশীলতা হেক্টর প্রতি সাড়ে ৭ মেট্রিক টন থেকে ৪৭ মেট্রিক টন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া ২৭টি খামারে প্রশিক্ষণ সুবিধাসহ অফিস ভবন ও ২৮টি লেবার শেড নির্মাণ করা হবে। ২০ খামারে ক্রায়োপ্রিজারভেশনের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন এবং হ্যাচারির রেনু ও পোনা উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ করা হবে। এছাড়া ৩২টি খামারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে ৬.৪ মেগাওয়াট নবায়ণযোগ্য উৎস হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ এবং ২ হাজার ৫৪০ জন মৎস্য খামার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, উদ্যোক্তা এবং বেসরকারি হ্যাচারি সংশ্লিষ্ট জনবলকে নিবিড় মৎস্য চাষ ও অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
কর্মশালায় বলা হয়, এই প্রকল্পে প্রাকৃত ব্যয় ৩৭১ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন মৎস্য অধিদফতরের উপপরিচালক (খুলনা বিভাগ) মো. জাহাঙ্গীর আলম।কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরকার রফিকুল রফিকুল আলম।
কর্মশালায় মৎস্য কর্মকর্তা,মৎস্যচাষী, হ্যাচারি মালিক, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here