যশোরের বঙ্গবাজারে দিনে দুপুরে দোকান লুট, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

0
198

যশোর অফিস : যশোরের বঙ্গবাজারে দিনে দুপুরে একটি ঔষুধের দোকানের তালা ভেঙে মালামাল ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগি পরিবার।এসময় দুর্বৃত্তরা ৫৫ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে দূর্বিত্তরা । বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন চৌধুরী ফার্মেসী অ্যান্ড সার্জিক্যালসের মালিক সোহেল রানা । এরআগে মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তিনি। অভিযুক্তরা হলেন, কাজীপাড়া কাঠালতলা এলাকার কাজী শহিদুল হক নাদিম, রাজারহাটের মোঃ আহাদ ও ঝুমঝুমপুরের মোঃ রাজু আহম্মেদ । তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে,সোহেল রানার বঙ্গবাজারে চৌধুরী ফার্মেসী অ্যান্ড সার্জিক্যালস নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে দোকান বন্ধ ছিলো। এমন সময় অভিযুক্তরা এসে তালা ভেঙে তার দোকানে প্রবেশ করে। বস্তায় করে সব ওষুধ ভরে নেই। যার দাম প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এসময় আশপাশের লোকজন প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু তাদেরকে হুমকি দেয়। দোকানের ক্যাশে থাকা প্রায় পঁাচ লাখ টাকা ও জরুরী কাগজপত্র লুট করে। এরমাঝে বাদী খবর পেয়ে দোকানে এসে দেখেন মালামাল বস্তায় ভরে নিয়ে চলে গেছে নাদিমসহ অন্যরা।
সোহেল রানা আরও জানান, ওই দোকানটা তিনমাস আগে ৭০ লাখ টাকা দিয়ে নাদিমের কাছথেকে কেনা হয়েছে। এরপর থেকে তিনি ব্যবসা করে আসছিলেন। যার ডিট ডকুমেন্টসও রয়েছে। এরমাঝে সম্প্রতি আরও ৫০ লাখ টাকা দাবি করে নাদিম। না দেয়ায় মুল স্ট্যাম্প ছিড়ে ফেলে নাদিম। এ নিয়ে আদালতে মামলা করা হয়। যা পিবিআই তদন্ত করছে। এরপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে নাদিম। সর্বশেষ মঙ্গলবার দোকানে হামলা চালিয়ে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নাদিমসহ অন্যরা। যার ভিডিও রয়েছে সোহেল রানার কাছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সোহেল রানার ভাই সোলাইমান চৌধুরি, বোন স্বপ্না খাতুন।
এদিকে, বঙ্গবাজারের একটি সূত্র জানিয়েছে নাদিম প্রথমে সোহেল রানার কাছে ৭০ লাখ টাকায় ওই দোকানটি বিক্রি করেন। যার কাগজপত্রও করে দেন। পরে আরেক পার্টি এসে নাদিমকে আরও বেশী টাকার প্রলোভন দেখায়। নাদিম পরে সোহেল রানার কাছে আরও ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। সোহেল রানা ওই টাকা না দেয়ায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চুক্তিনামা ছিড়ে ফেলে। মালামাল লুট করে সোহেল রানাকে দোকান ছাড়া করার পরিকল্পনা করে।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা পুরাতন কসবা পুলিশ ফঁাড়ি ইনচার্জ স্বপন কুমার দাশ বলেন, এবিষয়ে উভয়পক্ষের সাথে কথা বলেছেন। অভিযুক্ত নাদিম সিলেটে অবস্থান করছেন। তাকে শনিবারের মধ্যে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল হক নাদিম এসব অভিযোগে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন ওই দোকান তার ছিলো। ভিডিওর কথা বলে অন্যের দোকানে অনুমতি না নিয়েই তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে গেলেন কেন এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি ব্যর্থ হন। তিনি বলেছেন যা হয়েছে বঙ্গবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের কাছে বলে করা হয়েছে। যদিও তারাও এসব বিষয় কিছুই জানেন না বলে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here