‘দৈনিক সময়ের আলো’তে সংবাদ প্রকাশের ১ মাস পরে এবার ঘুষ বাণিজ্যে সক্রিয় জিএম টাকা না দিলে মেলেনা বিনামুল্যের ট্রান্সফরমার ॥ লোড বৃদ্ধি করতেই গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা ঘুষে সক্রিয় মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম-এজিএম ॥ অভিযোগ ভুক্তোভোগীদের

0
212

মেহেরপুর প্রতিনিধি : স্টোরে মজুদ থাকলেও বিনামূল্যের ট্রান্সফার পেতেও দিতে হয় টাকা, অথবা নীতিমালার প্যাচে পড়ে কিনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহক। কিন্তু ঘূষ দিলেই মিলছে ট্রান্সফরমার। খোদ জেনারেল ম্যানেজার, এজিএম, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার এই ট্রান্সফরমার বাণিজ্যসহ সকল সেবা কাজের দালাল চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আর তাদেরকে পেশি শক্তি দিয়ে আশ্রয় দিয়ে আলোচনায় রয়েছেন একজন ঠিকাদার।
বিভিন্ন গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্রাহক পর্যায়ে যখন ট্যান্সফরমারের প্রয়োজন হয় তখন স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ানদের মাধ্যমে আবেদন করানো হয়। আবেদন দেখে আবেদনকারীকে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্বদেশ কুমার ঘোষের কাছে পাঠিয়ে দেন তার পোষ্য দালালরা। ট্রান্সফরমার সংকট দেখিয়ে গ্রাহককের পুরো টাকা দিয়ে কিনে নিতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এতে ভীত হয়ে পড়েন গ্রাহক। গ্রাহকদের নানা অনুরোধের পরে জিএম তার নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দেন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে। সেই ব্যক্তিদের সাথে গ্রাহকের আলোচনা হয় এবং ২০-৩০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে সংযোগের জন্য ট্রান্সফরমার পেয়ে থাকেন গ্রাহকরা। আর কথিত এই দালালদের সাথে আলোচনায় যদি কেউ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানায় তবে টাকা দিয়ে ট্রান্সফরমার কিনতেও ভোগান্তি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে গ্রাহকরা ঘুষ কিংবা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অর্থ জমা দিয়ে তাদের খুশি রেখে ট্রান্সফরমার নিয়ে থাকেন।
অভিযোগ রয়েছে, গাংনীর একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক সংযোগে লোড বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়। আবেদন পেয়ে সক্রিয় হয়ে উঠে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতিবাজ চক্রের সদস্যরা। ট্রান্সফরমার কেনার কথা বলে গ্রাহককে গাংনী জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আখতারুজ্জামানের মাধ্যমে প্রথমে যোগাযোগ হয় এজিএম তিতাস হোসেনের সাথে এবং পরবর্তীতে জিএম স্বদেশ কুমার ঘোষ পর্যন্ত।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জিএম স্বদেশ কুমার ঘোষ, এজিএম তিতাস ও গাংনী জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আখতারুজ্জামান সিন্ডিকেটের এই তিন জনের সাথে ট্রান্সফরমার জালিয়াত চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ঠিকাদার মোজাম্মেল হক। তিনিই জিএম স্বদেশ কুমার ঘোষের সব অপকর্ম ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। স্থানীয় পেশি শক্তি ব্যবহার করে বর্তমানে ঢাল হিসেবে স্বদেশ কুমার ঘোষের অপকর্ম আড়াল করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। স্বদেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলকারীদের বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন ঠিকাদার মোজাম্মেল হক।
জানা গেছে, পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ছবি, লগো ও স্লোগান সম্বলিত মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৫ আগস্টের পর কয়েকমাস ধরে বাড়ি বাড়ি বিতরণ করে যে বিষয়ে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারী “দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকায় “ মেহেরপুরে বিদ্যুৎ বিলের কপিতে শেখ হাসিনার স্লোগান” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়”। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে বিভিন্ন মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। এর জন্য জিএম স্বদেশ কুমার ঘোষকে ফ্যাসিবাদী প্রীতিকে দায়ী করেছেন অনেকে। জিএম ইমেজ সংকটে পড়েন। উঠে আসতে থাকে তার নানা প্রকার দুর্নীতির চিত্র। জিএম এর দুর্নীতি চক্রের এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত একটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। তবে এসব ঠিক করে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামেন ঠিকাদার মোজাম্মেল হক। তিনি প্রায় সব সময়ই জিএম এর আশেপাশে ঘুরঘুর করেন। মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুতের অঘোষিত ত্রাণকর্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করেন। তার উপর ভর করেই জিএম পূর্বের মতই ঘুষ বাণিজ্যে আবারও লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মোবাইলে যোগাযোগ করলে মোজাম্মেল হকের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে, গাংনীর ওই দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ট্রান্সফরমার কিনে নিতে হবে শুনে গ্রাহক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। টাকা দিয়ে ট্রান্সফরমার কিনে লোড বাড়ানো সম্ভব নয় বলে অপরাগতার কথা জানিয়ে দেন গ্রাহক। এর এক পর্যায়ে জিএম স্বদেশ কুমার, এজিএম তিতাস হোসেন ও জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আখতারুজ্জামান চক্র একজন কথিত দালাল প্রেরণ করেন ওই প্রতিষ্ঠানে। জিএম, এজিএম এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়রকে ম্যানেজ করতে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। এ টাকা দিলেই তারা বিনামূল্যে ট্রান্সফরমার লাগিয়ে দিবেন বলে আশা দেন ওই কথিত দালাল। স্যারদের (জিএমএম, এজিএম, জুনিঃ ইঞ্জিনিয়র) পক্ষ থেকে এ খবর গ্রাহককে দিতে বলা হয়েছ বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় দাতব্য প্রতিষ্ঠানটির লোড অদ্যবধি বাড়ানো হয়নি বলে জানা গেছে। জরুরী প্রয়োজন হলেও লোড ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি না করায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।
তবে সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্বদেশ কুমার ঘোষ বলেন, একটি গতানুগতিক অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসলে এসব অভিযোগের সবই মিথ্যা। ট্রান্সফরমার প্রতারণা ও ঘুষের সাথে কাউকে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here