জলাবদ্ধতায় ১২ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনে বঞ্চিত হবে কৃষক

0
180

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে জলাবদ্ধতার কারণে সাত ইউনিয়নের কৃষকরা ১২ হাজার ৩০০ মেট্রিক
টন ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব ইউনিয়নের দুই হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে
হচ্ছে না বোরো আবাদ। যে কারণে কৃষকেরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। টানা বৃষ্টি ও নদ-
নদীর উপচে পড়া পানিতে এলাকার মাঠঘাট জলাবদ্ধ হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বোরো
আবাদ করতে না পারায় কৃষকেরা ৩২ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
করা হয় ১৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১২ হাজার ৭৯০ হেক্টর। জলাবদ্ধতার কারণে ভবদহ
অঞ্চলের কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নে ১ হাজার ৫০ হেক্টর, পাঁজিয়া
ইউনিয়নে ৪৭০ হেক্টর ও গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ৫১ হেক্টর এবং বুড়িভদ্রা নদী এলাকার
মজিদপুর ইউনিয়নে ২২৪ হেক্টর, বিদ্যানন্দকাটিতে ১২৫ হেক্টর, হরিহর নদের কেশবপুর সদরে
১১৫ হেক্টর ও মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ১৫ হেক্টর জমিতে এবার বোরো আবাদ হচ্ছে না। যে
কারণে কৃষি অফিসের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি।
উপজেলার বাগদহা গ্রামের কৃষক শাহিনুর রহমান বলেন, বাগদহা বিলে গতবছর বোরো
আবাদ হয়েছিল। এবার বিলের তিন ভাগের দুই ভাগ জমি জলাবদ্ধ রয়েছে। যে কারণে তিনি
তার ৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করতে পারেননি। কৃষকেরা বোরো আবাদ করতে না
পারায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে তিনি জানান।
পাঁজিয়া ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বৈদ্যনাথ সরকার বলেন,
জলাবদ্ধতার কারণে বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর বিলে বোরো আবাদ হচ্ছে না। এখনো
গ্রামের কিছু কিছু মানুষের বাড়িতে জলাবদ্ধ পানি রয়েছে।
২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক বাবর আলী গোলদার বলেন, নদ-নদী পলিতে
ভরাট হওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ছে। যার কারণে ভবদহ অঞ্চলের কেশবপুর
উপজেলার সুফলাকাটি, পাঁজিয়া ও গৌরীঘোনা ইউনিয়নের জলাবদ্ধ ৭০ থেকে ৮০ ভাগ
জমিতে এবার বোরো আবাদ হচ্ছে না। নদ-নদী খননের পাশাপাশি ভবদহ অঞ্চলের যে কোন
একটি বিলে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালু করা না হলে প্রতিবছর
জলাবদ্ধতা আরও বৃদ্ধি পাবে। কৃষক এভাবে বোরো আবাদ থেকে বঞ্চিত হতে থাকলে
অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। এভাবে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেতে থাকলে এক সময়
জলাবদ্ধ অঞ্চলের মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হবেন।
উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কিরন্ময় সরকার বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে
এবার উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের দুই হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে বোরা আবাদ হচ্ছে না।
এ কারণে কৃষকেরা ১২ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জলাবদ্ধ না থাকলে ওই সমস্ত জমিতে ৩২ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ধান উৎপাদন
সম্ভব হতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here