রায়হান হোসেন, চৌগাছা পৌর প্রতিনিধিঃযশোরের চৌগাছা উপজেলায় পিজিআর প্রয়োগের পর একটি লিচু বাগানে ব্যাপক ছত্রাক সংক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ মনে করছে, অসময়ে ও সঠিক নিয়ম না মেনে স্প্রে করায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে পণ্য সরবরাহকারী কোম্পানি ভিন্ন মত দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছে।
উপজেলার মুক্তদহ গ্রামের এক লিচু বাগান মৌসুমী ভিত্তিতে কেনেন ইছাপুর গ্রামের শিহাব উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী। বাগানটি কিনে তিনি স্থানীয় একটি agrovet দোকান থেকে গ্লোবাল এগ্রোভেট লিমিটেডের একটি পিজিআর ক্রয় করে ২১ এপ্রিল সকালে গাছে স্প্রে করেন। উদ্দেশ্য ছিল ফলন আরও ভালো করা। কিন্তু মাত্র তিন দিনের মাথায় বাগানে দেখা দেয় ছত্রাকের আক্রমণ ও ফল ঝরে পড়া।
পরিস্থিতি দেখে তিনি দোকানি, কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি এবং কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেন। এরপর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনের সময় কোম্পানির প্রতিনিধি দাবি করেন, অতিরিক্ত গরমের কারণেই ফল ঝরেছে। তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, ফল সংগ্রহের ঠিক আগে পিজিআর স্প্রে করায় এমন হয়েছে। তারা জানান, এ ধরনের পণ্য সাধারণত ফলের মিষ্টতা আসার আগেই গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হয়। স্প্রে করে প্রয়োগ করলে এবং সেটা যদি অসময়ে হয়, তাহলে তা উল্টো ক্ষতি ডেকে আনে।
কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, যেসব লিচু ইতোমধ্যে ছত্রাকে আক্রান্ত হয়েছে সেগুলো আর রক্ষা করা সম্ভব নয়। তবে অবশিষ্ট ফল রক্ষায় ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
শিহাব উদ্দিন বলেন, “ওষুধ বিক্রেতা বা কোম্পানির কেউ আমাকে বলেনি এই সময়ে স্প্রে করা যাবে না। এখন আমার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আমি এর ক্ষতিপূরণ চাই।”
অন্যদিকে গ্লোবাল এগ্রোভেট লিমিটেডের কোটচাঁদপুর এলাকার সিনিয়র মার্কেটিং কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, “আমাদের ওষুধ ব্যবহারে ছত্রাক হয়েছে কিনা, তা নির্ধারণে আরও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। একই সময়ে বাগানে অন্য কোনো ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না তাও খতিয়ে দেখতে হবে।” তিনি বলেন, “পণ্যটি ফল পাকার সময়ও ব্যবহারযোগ্য এবং স্প্রে করলেও তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।” তবে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।















