রাহাত আলী,মনিরামপুর: যশোরের মনিরামপুরে সাথী আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে জবাই করে
হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও সতিনের বিরুদ্ধে। সোমবার সকাল ৯ টার
দিকে উপজেলার খাটুয়াডাঙ্গা বাজারের পাশে স্থানীয়রা জাহাতাব মোড়লের
চাতালের একটি ঘরে গৃহবধূর গলাকাটা লাশ দেখে থানা পুলিশে খবর দেন। খবর
পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিলে লাশ হেফাজতে নেয়।এই খবর লেখা পর্যন্ত
পুলিশ লাশ উদ্ধারের কাজ করছিল। নিহত সাথী আক্তার চাতাল মালিকের ছেলে
আব্দুর রশীদ মিন্টুর ছোট স্ত্রী। তিনি চাতালে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
নিহত গৃহবধূর স্বজনদের দাবি, যৌতুকের এক লাখ টাকা না পেয়ে মিন্টু
তার বড় স্ত্রী ও ছেলে রিফাত হোসেনকে নিয়ে সাথীকে খুন করেছে। এদিকে
সাথী আক্তারের লাশ বাড়িতে ফেলে তার স্বামী মিন্টু বড় স্ত্রী, ছেলে ও পূত্রবধুকে
নিয়ে পালিয়েছে। সাথীর মা আলেয়া বেগম বলেন, সোমবার সকালে চাতালে
লোকজন কাজ করতে এসে সাথীকে কাজের জন্য ডাকাডাকি করে। পরে সাড়া
না পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখে মাটিতে মেয়ের গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। আলেয়া
বেগম বলেন, সাথী আমার একমাত্র মেয়ে। চার মাস আগে ওর বাপের জমি বেচে
মিন্টুর হাতে চার লাখ টাকা দিছি। আরও এক লাখ টাকা মিন্টু চেয়েছে।
টাকা না দেওয়ায় মিন্টু আমার মেয়েকে গলা কেটে খুন করেছে। আমি
মিন্টুর ফাঁসি চাই। আলেয়া বেগম আরও বলেন, সাথীর প্রথম স্বামীর ঘরে দুই
ছেলে আছে। সেখানে অমিল হওয়ায় ছেলে দুটোকে নিয়ে মেয়ে আমার বাড়ি
থাকত। চার বছর আগে মিন্টু আমার বাড়ি যেয়ে সাথীকে চাতালে কাজের জন্য
নিয়ে আসে। এরপর একদিন মিন্টু আমার মেয়েকে চাতালে ফেলে ধর্ষণ করে।
আমি জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে মিন্টু সাথীকে কাজী অফিসে নিয়ে
বিয়ে করে। ্#৩৯;মিন্টুর বাড়ি আসার পর আমার মেয়ে চাতালের একটি ঘরে থেকে
সেখানে কাজ করত। প্রায় মিন্টু সাথীকে মারধর করত। আমার সামনে
কয়েকদিন গলা টিপে ধরেছিল।্#৩৯;কুলটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আট নম্বর
খাটুয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল করিম বলেন, মিন্টুর মেয়ে লিমাকে
গ্রামে বিয়ে দেওয়া। সকালে লিমা বাবার বাড়ি এসে কাউকে না পেয়ে
সাথীকে খোঁজে। পরে সাথীর ঘরে যেয়ে তার লাশ দেখতে পেয়ে আমার বাড়িতে
এসে আমাকে ঘটনা বলে। মেম্বর বলেন, খুনের খবর পেয়ে আমি বাজার থেকে
লোকজন নিয়ে এসে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিই। এসময় বাড়িতে
মিন্টু বা তার প্রথম পরিবারের পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয়রা
জানান, মিন্টু একসময় অস্ত্র কেনা বেচার কাজ করত। বেশ কয়েক বছর আগে
সে অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। এরপর ১০-১১ বছর সাজা
খেটে বেরিয়ে এসে সাথীকে বিয়ে করে। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, খবর পেয়ে আমি ফোর্স নিয়ে
ঘটনাস্থলে এসেছি। গৃহবধূ সাথীকে গলা কেটে হত্যা করে লাশ ঘরের
মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে। আমরা খুনের রহস্য বের করতে কাজ করছি।















