এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে সরকারি খাল মাছের ঘের হিসেবে ব্যবহার করায় হদ গ্রামের দু’পক্ষের
মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রভাবশালী একটি মহল হদ বড় বিলের
সরকারি ঘোড়া দিগড়ে খালটি দখল করে মাছের ঘের হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ওই
খালটি দখলমুক্ত করে খননের দাবি জানিয়েছেন হদ গ্রামবাসী। গ্রামের মানুষের
অভিযোগের কারণে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্তকালে খালটির অস্তিত্ব
খুঁজে পান। খালটি দখল মুক্ত হলে এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতা থেকেও রেহায় পাবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হদ গ্রামের ৪১০ বিঘা জমির বড় মাছের ঘেরের
সরকারি খাল দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জবর দখল করে মাছ চাষ করছেন পাঁজিয়া ইউনিয়নের
সাবেক চেয়ারম্যান হদ গ্রামের শফিকুল ইসলাম মুকুলসহ চার ব্যক্তি। বিলের চারপাশের
গ্রামের প্রায় চার শতাধিক কৃষক জমিতে বোরো আবাদ করে জীবন জীবিকা
নির্বাহ করে। দীর্ঘ ১৫ বছর কৃষকদের মতামত উপেক্ষা করে পানি নিষ্কাশনের খালসহ
বিলের ১০ বিঘা সরকারি খাস জমি দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। এনিয়ে কৃষকদের মধ্যে
অসন্তোষ দেখা দিলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। সে সময় বিষয়টি নিয়ে
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ, এমনকি সংবাদ সম্মেলন করেও প্রতিকার মেলেনি।
সম্প্রতি সরকারি খাল দখল মুক্ত করার দাবিতে হদ গ্রামবাসী স্থানীয় প্রশাসনের নিকট
একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার (১৪ মে) উপজেলা
সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সরেজমিন হদ বিলে গিয়ে সরকারি খালের অস্তিত্ব খুঁজে
পান। এ সময় গ্রামবাসী প্রভাবশালী মহলের দখলে থাকা ওই খালটি উন্মুক্তসহ খনন করার
দাবি করেন।
এলাকার পানি কমিটির নেতা মহিরউদ্দীন বিশ^াস বলেন, বড়বিলের দেড় কিলোমিটার ওই
ঘোড়া দিগড়ে খাল দিয়ে হদ গ্রামের কৃষকরা নৌকাযোগে বিলের ফসল আনা নেওয়া
করতো। খালটি জবর দখলে চলে যাওয়ায় কৃষকদের প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে
আসা-যাওয়অ করতে হয়। যে কারণে খালটি দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্তের দাবি জানিয়ে
আসছেন গ্রামবাসী।
এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ডিডের শর্ত মেনেই
ঘেরটি পরিচালনা করা হয়েছে। বর্তমান এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘেরটির দখল নিতে
তারই ইন্দনে কয়েকজন জমির মালিককে দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার
চালাচ্ছে। তবে বিলের মধ্যে একটি খাল রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। ওই খালটি ভরাট
হয়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষ সেখানে ধান রোপন করে থাকে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ^াস বলেন, সরেজমিন
তদন্তকালে বিলের মধ্যে খালটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। মাছ চাষ করার কারণে ঘেরের
অভ্যন্তরের সরকারি খালটি বর্তমান ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। খালটি দখল মুক্ত করে
পুণঃখনন হলে এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতা থেকেও মুক্ত হবেন। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।















