মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামী হিটু শেখের মৃত্যুদন্ড ॥ খালাস ৩ জন

0
259

মাগুরা প্রতনিধিঃি মোঃ নাসরুিল ইসলাম (বাবলু): মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা
মামলার প্রধান আসামী হিটু শেখের মৃত্যুদন্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত।
এ মামলায় বাকি ৩ আসামী হিটু শেখের স্ত্রী জায়েদা খাতুন, ছেলে সজীব শেখ ও রাতুল শেখকে
বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে মাগুরা নারী ও শিশু
নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক এম জাহিদ হাসান এই রায় ঘোষণা দেন। মাত্র তিন
মিনিটের মধ্যে রায় পড়ে শোনান মাগুরার শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক
এম জাহিদ হাসান। এর আগে সকাল ৯টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আসামীদের আদালতে
হাজির করা হয়।
এ দিকে এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন। তিনি বলেন, মামলায়
শুধু হিটু শেখের মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে । অন্য তিন আসামীকে খালাস দেওয়া হয়েছে যা
আমরা মেনে নিতে পারছি না । কারণ এ মামলায় অন্য তিন আসামীদের শাস্তির হওয়া দরকার ছিল।
রাষ্ট্র পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মুকুল সাংবাদিকের জানান,
শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বিজ্ঞ বিচারক মামলার প্রধান আসামী হিটু শেখকে
২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইন সংশোধীত ২০০৩ এর ৯/২ ধারায় আনিত অভিযোগ
প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ ট্রাইবুনাল তার মৃত্যুদন্ড প্রদান করেছেন। একই সাথে অতিরিক্ত ১ লাখ
টাকা জরিমানা ধার্য করেছেন। অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায়
বিজ্ঞ আদালত তাদেরকে বেকসুর খালাশ দিয়েছেন। রায় প্রদানের পরে রাষ্ট্র পক্ষ হিটু শেখের মৃত্যু
দন্ডে সন্তষ্ট। তবে যাদের খালাশ দেয়া হয়েছে আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পরে পর্যালোচনা
করে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সিধান্ত গ্রহণ করবো।
মামলার রায়ের পর রাষ্ট্র পক্ষের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগকৃত এ্যাটর্নী জেনারেল পদ
মর্যদার আইনজীবি এহসানুল হক সমাজী সংবাদিকদের জানান, বহুল প্রতিক্ষিত অছিয়া ধর্ষণ ও
হত্যা মামলায় যুগান্তকারি রায়ের মাধ্যমে এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামী হিটু শেখকে
নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০৯/২ ধারায় দোষী সাভ্যস্তক্রমে সর্বচ্চো শাস্তি মৃত্যুদন্ড প্রদান
করেছে। এবং এই মামলায় তার পরিবারের অন্যান্য যে সদস্যরা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে পেনাল
কোডের সেকশন ৫০৬/পার্ট-২ ও সেকশন ২০১ এ যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল সে অভিযোগ
প্রমানিত না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাদেরকে মামলার দায় থেকে খালাশ প্রদান করেছন।
এ আলোচিত মামলায় অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরুর ২১ দিনের মাথায় বিচার কার্যক্রম শেষ হয় ।
এই মামলায় বাদি, সাক্ষী, চিকিৎসক সুরতহাল ও পোষ্টমার্টাম রিপোর্ট প্রস্তুতকারী
কর্মকর্তা এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করেছেন
আদালত। আগামী ১৭ মে এই মামলার রায় ঘোষনার জন্য বিজ্ঞ আদালত দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামের ৮ বছরের শিশুটি সদর উপজেলার শহরতলীর
নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ৬ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয়। প্রথমে
তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর ও পরে ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সর্বশেষ চিকিৎসাধীন
অবস্থায় ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা
আয়েশা খাতুন বাদি হয়ে মাগুরা সদর থানায় মেয়ের শ্বশুর হিটু শেখ, জামাই সজিব শেখ, তার ভাই
রাতুল শেখ ও তাদের মা জাহেদা খাতুনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার পর ৪
আসামীকে গ্রেফতার করে। ১৫ মার্চ হিটু শেখ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট
সব্যসাচী রায়ের আদালতে ১৬৪ ধারায় ম্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ মামলায় ১৩ এপ্রিল
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আসামীদের বিরুদ্ধে আলোচিত এ মামলার অভিযোগ পত্র
আদালতে দাখিল করেন। পরে ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফজুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে
ট্রাইবুনালে হস্তান্তর করা হয় এবং ২০ এপ্রিল অভিযোগ পত্র গ্রহণ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here