রং এর আবার মেয়াদ লাগে? এই ধারনাটাই সাধারনের নেই বললেই চলে।
জি, আর এ সুযোগেই যশোরের অধিকাংশ হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী
দেদারসে বিক্রী করছে মেয়াদউত্তীর্ণ রং।
যশোরের চার খাম্বার মোড়ে ডিনেচার্জ স্পিরিট নামে একটি
হার্ডওয়ার দোকান। এই দোকানে এক লিটার প্লাস্টিক কালো
পেইন্ট কিনতে চাইলে তিনি ১ লিটারের এলিট পেইন্ট দেন, যার মুল্য
নেন ৩৫০ টাকা। পেইন্ট এর টিউবের গায়ে মেয়াদ ছিলো উৎপাদন
ডেট ১৮/১০/২২ আর মেয়াদ উত্তীর্ণ ডেট ছিলো ১৮/৪/২৪। এক
বছরের বেশি সময় আগে রং টি ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে গেছে।
এলিট কোম্পানির এক্সপার্টের ভাস্য মতে ওই রং এর আর কোন
কার্যক্ষমতা নেই।
জানা যায় মেয়াদউত্তীর্ণ রং দিয়ে ঘ্ধসঢ়;র কিম্বা ইমারত রয় করলে খুব
দ্রুতই ডিসকালার হয়ে যায়। কারন ওই রং এ আঠা নষ্ট হয়ে যায়, অন্য
দিকে রং এর উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়। আর যার কারনে কিছুদিনের মধ্যে রং
দেয়াল থেকে খসে পড়ে, রোদ কিম্বা বৃষ্টিতে ঝলসে ডিসকালার হয়ে
যায়।
এ ব্যাপারে এই হার্ডওয়ার দোকানের মালিক মিসনের সাথে কথা
বললে তিনি প্রথমে বোঝানোর চেষ্টা করেন, এটাই নিয়ম। আমরা
এভাবেই বিক্রী করি। রং পরিবর্তন করে দিতে বললে প্রথমে অস্বিকার
করেন। যদিও পরে সাংবাদিকের পরিচয় পেয়ে ফেরত নেন।
ওই সময় রং ক্রেতা রনি বলেন আমি একবার ফেরত দিতে নিয়ে
আসছি। তারা টাকাও ফেরত দেবে না আর রংও চেঞ্জ করবে না বলে
আমাকে ফিরিয়ে দেন।
ওই দোকানদার রং কেন চেঞ্জ করে দেবে না এমন প্রশ্নের উত্তর খোজার
জন্য যোগাযোগ করা হয় এলিট পেইন্ট এর খুলনা রিজোনাল
ম্যানেজার আব্দুল মান্নানের সাখে। তিনি বলেন আমরা তখনই রং টি
বাজার থেকে তুলে নেই যখন দোকানী মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ২-১
দিন আগে আমাদের ফেরদ দেয়। আর এ কারনেই দোকানদাররা মুনাফার
লোভে মেয়াদউত্তীর্ণ রং গুলো ভুলভাল বুঝিয়ে না জানিয়ে অনেক সময়
ঘসে সিল উঠিয়ে বিক্রী করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে এলিট পেইন্ট এর সেলস ম্যান নাহিদ বলেন ১ বছর ২ বছর
মেয়াদ শেষ হলে রং এর কিছু হয় না। তিনি বলেন যশোরের বাজারে
প্রায় সব দোকানে এমন মেয়াদ উত্তীর্ণ রং পাওয়া যাবে। তিনি
বলেন শুধু এলিট কেন সব কোম্পানিরই এমন মেয়াদ হীন রং আছে।
অনেকরই তো মেয়াদের কোন সিল নেই।
যশোরের বাজারে খোজ নিয়ে এর সত্যতাও মেলে। কোন কোন
দোকানে রং এর টিউবের গায়ে মেয়াদ আছে, কোনটার নেই আবার
কোনটার এমন কিছুই নাই যা দেখে ওর মেয়াদ আছে কি না নেই
তা বোঝা যাবে।
এ ব্যাপারে এশিয়ান পেইন্টস এর কালার এক্সপার্ট বাবু বলেন ভালো রং
এর গুনাগত মান ততদিনই ভালো থাকে যত দিন মেয়াদ থাকে। তিনি
বলেন অনেক কোম্পানি অতিরিক্ত দিন ধরে মেয়াদ বসাই আর যে
কারনে ভালো রেজল্ট পাওয়া যায় না। রং করার কিছু দিনের মধ্যে
ডিসকালার হয়ে যায়।
এলিট পেইন্ট এর খুলনা রিজোনাল ম্যানেজার আব্দুল মান্নান বলেন
আমর া কোম্পানির লোক কখনই চাইবো না বাজারে এমন
মেয়াদউত্তীর্ণ পন্য থাকুক। তিনি বলেন আমি ব্যাপরটা গুরুত্বের
সাথে দেখবো।















