চুড়ামনকাটিতে চুরি হওয়া গরুর পায়ের দাগ দেখে চোর ধরলেন বিধবা

0
131

চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি ॥ রাতে গরু চুরি। তারপর ভোরে কাদাঁর মধ্যে দিয়ে নিয়ে
যাওয়া গরুর পায়ের দাগ দেখে চোর ধরলেন বিধবা মহিলা।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে যশোর সদরের
চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামে। পরে
এলাকাবাসী চোরকে পুলিশে সোর্পদ করে।
জানান যায়, চুড়ামনকাটির ইসলামপুর শেখপাড়ার মৃত
আবু তাহেরের বিধবা স্ত্রী মমতাজ বেগম কষ্ট করে একটি
গাভী পালন করেন দীর্ঘদিন যাবত। মমতাজ বেগম জানান,
প্রতিদিনের ন্যায় তিনি সন্ধ্যায় তার গাভীটি গোয়ালে
রেখে ঘুমাতে যান। পরে রাত দুইটার দিকে তিনি উঠে
গাভীর খাবার দিয়ে আবারও ঘুমাতে যান। এর কিছু সময়
পরে গোয়ালে থাকা বাছুরের দাপাদাপির শব্দ শুনে গোয়ালে
গিয়ে দেখতে পান তার গাভীটি গোয়াল ঘরে নেই। এ সময়
তার আত্ন চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে
আসে।সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টি হওয়ার কারণে গরু যে পথ দিয়ে
চোরেরা নিয়ে গেছে তার পায়ের দাগ অনেকটাই দেখা
যাচ্ছিলো। এ সময় বিধবা মমতাজ কয়েকজনকে সাথে
নিয়ে গরুর পায়ের দাগ ধরে এগুতে থাকেন। প্রায় ৫
কিলোমিটার দুরে বাগডাঙ্গা গ্রামে মহি উদ্দিনের ছেলে
আশরাফুল ইসলামের বাড়ির নিকট গিয়ে পায়ের দাগ শেষ হয়।
এ সময় মমতাজ ও তার সাথে থাকা লোকজন আশেপাশে
খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে আশরাফুল ইসলামের বাড়ির
সাথেই বিশেষ ভাবে তৈরি করা একটি চোরাই গোয়াল ঘরে
দেখতে পান তারা। এ সময় মুহুর্তেই বিষয়টি এলাকায়
জানাজানি হলে চোর আশরাফুল ইসলাম কৌশলে পালিয়ে
যায়। পরে এলাকাবাসী জোটবদ্ধ হয়ে এলাকায়
খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে তাকে ধরে আনে।
এলাকাবাসীর হাতে আটকের পর চোর আশরাফুল ইসলাম
জানান, সে সহ একই গ্রামের রান্নার ছেলে মাদক
ব্যবসায়ী রিপন ও রেজাকের ছেলে ইমন মিলে এক গরু চুরি
করে আনে। সে আরো জানান, তারা এর আগেও একাধিক
জায়গা থেকে চুরি করেছে।
এ ব্যাপারে সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই
আব্দুর রউফ জানান, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে
চোরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।এরপর গরুর মালিক
মামলা করতে রাজি না হওয়াই তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে
এলাকাবাসীর সহযোগীতায় ভুক্তভোগী মহিলাকে গরুটি
বুঝে দেওয়া হয়। এছাড়া চোরকে থানায় সোর্পদ করা
হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here