কামরুজ্জামান লিটন ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজারে যাত্রী ছাউনি দখল করে দোকান নির্মাণ ও ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ বলা হয়েছে, সাগান্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন, সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন এবং মধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জেলা পরিষদের মালিকানাধীন যাত্রী ছাউনি দখল করে সেখানে দোকান নির্মাণ করেন। পরে এসব দোকান আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল মন্ডল, আবু সাঈদ, মাহবুব হোসেন, আতিকুর রহমানের সহায়তায় ভাড়া দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের শেষ দিকে নির্মিত ওই যাত্রী ছাউনিতে দোকান তৈরি করে প্রতিটি দোকান থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়া হয়। এরপর মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতে দোকানগুলো হস্তান্তর করা হয় ব্যবসায়ীদের কাছে। অভিযোগ রয়েছে, এখনও ওই জায়গাগুলো ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া দিয়ে মাসিক আয় করছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যাত্রীদের বসার জন্য নির্মিত স্থাপনাটি এখন আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৯৮৬ সালে নির্মিত পুরোনো যাত্রী ছাউনিটি পরবর্তীতে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমানে তা সংস্কার না করে সেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে।
মার্কেটের বর্তমান ভাড়াটিয়া রাসেল হোসেন বলেন, আমি তিন লাখ টাকা দিয়ে দোকানটি নাজির চেয়ারম্যানের কাছ থেকে নিয়েছি। প্রতি মাসে ভাড়া দিচ্ছি দুই হাজার টাকা। পাশের চায়ের দোকানদার আড়াই লাখ টাকা দিয়েছেন। এই টাকাগুলো চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতারা ভাগ করে নিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাধুহাটি ইউপি চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন বলেন, এক সময় সেখানে যাত্রী ছাউনি ছিল। পরে জেলা পরিষদের কাগজপত্রের ভিত্তিতেই দোকান নির্মাণ করা হয়েছে।
মধুহাটি ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনও একই বক্তব্য দিয়ে বলেন, জেলা পরিষদের অনুমোদন নিয়েই কাজ করা হয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য জেলা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
এ বিষয়ে সাগান্না ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।















