অভয়নগর (যশোর ( প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগরে কৃষকদল নেতা হত্যার জেরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ পরিবারকে তাৎক্ষনিক সহায়তা দিয়েছেন জেলা প্রশাসন যশোর। অভয়নগর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান কার্যকর করা হয়েছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম এ বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছেন, পরিবার প্রতি প্রাথমিকভাবে ৩০ কেজি চাল, ৬ হাজার টাকা ও দুই বান করে টিন দেয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ মে) উপজেলার নওয়াপাড়া পৌর কৃষক দলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম সরদারকে ডহরমশিয়াহাটি গ্রামে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর তরিকুল ইসলামের সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং তারা প্রধান অভিযুক্ত পিন্টু বিশ্বাসের তিনটি ঘরে প্রথমে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ওই বাড়ির পাশের আরো ১৫ টি পরিবারের বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়। সব মিলিয়ে ১৮ টি বাড়ি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ধানের গোলা, বসতঘর, রান্না ঘর, গোয়াল ঘর, টিভি, ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল পুড়ে যায়। ওই গ্রামের চারদিকে ঘরবাড়ির জিনিসপত্র পোড়ার ছাই। কারও বাড়ির ঘরের ইট আছে শুধু, ঘরের ছাউনি, তার ভিতরে জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে আছে। পাড়াটিতে বেশির ভাগ বাড়ির পুরুষ শূন্য। দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজনেরা দলবেঁধে খাবার নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে আসছেন। আবার ঘটনার দিন রাত থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। আর ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে যশোর জেলা প্রশাসন মাঠে নামে। তারা দ্রুত মানবিকভাবে এগিয়ে আসে। আর ডহর মশিহাটি গ্রামের ১৮ পরিবারকে সহায়তা দেয়া হয়। এরা হচ্ছেন- বারিন বিশ্বাস, মনিশান্ত, সুকৃতি, পরিতোষ, প্রনব, বাসুদেব, প্রতাপ, বিকাশ, অজিত, কামনা রানী, শংকর, শুশান্ত, দিলীপ, বিষ্ণু, মহিতোষ, পবন, বিশ্ব ও শিমুলের পরিবার।
এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, হত্যাকান্ড অগ্নিসংযোগ ঘটনার পর থেকে জেলা প্রশাসন ওই এলাকায় নজরদারি করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। পরিবার প্রতি প্রাথমিকভাবে ৩০ কেজি চাল, ৬ হাজার টাকা ও দুই বান করে টিন দেয়া হয়েছে। যশোর জেলা প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।















