রাসেল মাহমুদ : নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ঘেরা, ১২৬১ সালে স্থাপিত এক অসাধারণ কারুকার্যমণ্ডিত মুন্দিরটি আজো দাঁড়িয়ে আছে যশোরের নরেন্দ্রপুরে। যশোর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার পূর্বে রূপদিয়া বাজার অতিক্রম করে, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের বেলতলা নামক স্থানে একটি ঘন ঝোপের মধ্যে প্রায় হাজার বছর পুরোনো এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যদিও তার শরীরে সময়ের ক্ষত স্পষ্ট। কথিত আছে, এই মুন্দিরে কষ্টিপাথরের বিভিন্ন মূর্তি ছিল, যা দুষ্কৃতিকারীদের হাতে চুরি হয়ে গেছে দীর্ঘদিন আগে। এখন শুধু অবশিষ্ট আছে কারুকার্যে ভরপুর একটি সু-উচ্চ ভবনের কাঠামো। বর্তমানে এটি অবহেলা ও অরক্ষিত অবস্থায় আছে। ঝোঁপঝাড় ও লতাপাতায় মুড়ে থাকা ভবনটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার পথে।
এই মুন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায় সুনীল বংশপাদ্যায়ের প্রথম আলো বইয়ে। বইটি থেকে জানা যায়, এই স্থানটি একসময় গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। জিরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরজাহান জানান, একসময় একজন ব্যক্তি মুন্দিরটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে সে উদ্যোগের কী পরিণতি হয়েছিল তা জানা যায়নি। দুঃখজনক হলেও সত্য, স্থানীয় অনেকেই এই ঐতিহাসিক স্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত নন। প্রধান শিক্ষিকা নুরজাহান মনে করেন, এ ধরনের ঐতিহ্য সম্পর্কে সবার জানা উচিত। একইসাথে তিনি মত দেন যে প্রত্নত্ত্ব অধিদপ্তরের উচিত স্থাপনাটিকে সংরক্ষণ করা এবং এটিকে একটি পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা।















