শনিবার পবিত্র ঈদুল আযহা

0
344

যশোর ডেস্ক : লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষসহ মনের পশুকে পরাভূত করার বাণী নিয়ে আবারও এসেছে কোরবানির ঈদ। আগামী শনিবার পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের আনন্দে মাতবে সারাদেশ। ঈদুল ফিতরের মতো কোরবানির ঈদের তারিখ নিয়ে আনন্দময় অনিশ্চয়তা থাকে না। আট দিন আগেই পশ্চিম আকাশে জিলহজের চাঁদ জানান দিয়েছে কোরবানির বারতা। আগামী শনিবার বাংলাদেশের সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর নামে পশু কোরবানি করবেন। তবে পশু কোরবানি প্রতীকী। কবি নজরুল বলেছেন, ‘মনের পশুরে করো জবাই- পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।’ সবাই সাধ্যমতো সেরা পশু কোরবানি দেবেন ঈদে। রাজধানী ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যারা আচ্ছেন, তাদের ঈদের খুশি বজায় রেখেছে উন্নত মানের যোগাযোগ ব্যবস্থা। যার ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটসহ যাত্রাপথে ভোগান্তি নেই। পবিত্র কোরআনের বর্ণনানুযায়ী, চার হাজার বছর আগে আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার সবচেয়ে প্রিয় নিজ সন্তান হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার উদ্যোগ নেন। তবে আল্লাহর কুদরতে হজরত ইসমাইলের (আ.) পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। হজরত ইব্রাহিমের (আ.) এই ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্মরণ করে প্রতিবছর মুসলমানরা কোরবানি করেন। তবে আল্লাহর পথে ত্যাগই ঈদুল আজহার প্রধান শিক্ষা। পশু জবাই করে তা বিলিয়ে দেওয়া দান নয়, ত্যাগ। কবি নজরুল বলেছেন, ‘চাহি নাকো দুম্বা উট, কতটুকু দান? ও দান ঝুট। চাই কোরবানি, চাই না দান।’ সামর্থ্যবানরা নিজেদের নামে, প্রিয়জনের নামে পশু কোরবানি দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায়ে সচেষ্ট হবেন। যাদের সামর্থ্য নেই তারাও বাদ যাবেন না ঈদের আনন্দ থেকে। কোরবানির মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করার বিধান রয়েছে ইসলামে। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও পরের দু’দিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ তারিখেও পশু কোরবানি দেওয়া যায়। সেই হিসাবে আগামী রবিবার ও সোমবারও কোরবানি করা যাবে। পছন্দের পশু কোরবানি করতে সবার এখন ‘গরুখোঁজা’ দশা। সামর্থ্যরে সর্বোচ্চ দিয়ে সেরা গরু, ছাগল কেনার জন্য ছুটছেন হাট থেকে হাটে। কয়েক বছর ধরে অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশু। তাই পশুর খোঁজে কেউ কেউ চোখ রাখছেন কম্পিউটার ও স্মার্টফোনে। এদিকে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করতে কোটি মানুষ শহর, কর্মস্থল ছেড়ে গিয়েছেন কিংবা যাচ্ছেন প্রিয়জনের কাছে। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে ঈদের ছুটি। এবার সরবকারি ছুটি দশদিন। ঈদের দিন সকালে পরিস্কার অথবা নতুন পোশাক পরে সব বয়সী মানুষ শরিক হবেন ঈদের জামাতে। এক কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আদায় করবেন ঈদের নামাজ। ভুলে যাবেন সব ভেদাভেদ। এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ থেকে পৌরসভা যশোর ঈদগাহ ময়দানে নামাজ পড়ার বিশেষ ব্যবস্থা করে দিয়েছে । তাই এবারও যশোর শহরের কেন্দ্র ঈদগাহে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। যশোর কেন্দ্র ঈদগাহে জামাত অনুষ্ঠিত হবে ৭টা ৩০মিনিটে। কোরবানির তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করবে সংবাদপত্রগুলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here