যশোরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরো একজনের মৃত্যু

0
111

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর ২৫০শ্য্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউসুফ (৪৫) নামে আরো একজন করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯জুন) ভোররাতে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডাক্তার রবিউল ইসলাম তুহিন। ইউসুফ মনিরামপুর উপজেলার মাহমুদকাটি গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইউসুফ কিডনিজনিত সমস্যা নিয়ে গত ১৩ জুন যশোর জেনারেল হাসপাতালের চতুর্থ তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৪ জুন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু রোগীর শরীরে অক্সিজেন লেভেল কমতে শুরু করে। তখন চিকিৎসকরা র‌্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষার পরামর্শ দেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর স্বজনরা বুধবার (১৮জুন) দুপুরে শহরের ইবনে সিনা প্রাইভেট হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষা করান। রাতে প্রতিবেদন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রেরণ করেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে রোগীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। চিকিৎসকরা রোগীর করোনার চিকিৎসা শুরু করার আগেই বৃহস্পতিবার (১৯জুন) ভোররাতে তিনি মারা যান। এর আগে বুধবার ভোরে (১৮ জুন) যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও এক রোগীর মৃত্যু হয়। মৃত শেখ আমির হোসেন বাঘারপাড়ার জহুরপুরের মৃত শেখ মকছেদ আলীর ছেলে। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষায় ওই রোগীর করোনা শনাক্ত হয়। যশোর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন বলেন, আমরা রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাকে বাঁচানো গেলোনা। তিনি আরো বলেন, এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যশোরে করোনার নতুন ঢেউয়ে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। এর আগে বুধবার ভোরেই করোনা আক্রান্ত আরেক ব্যক্তি শেখ আমির হোসেন (৬৮) মারা যান একই হাসপাতালে। বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আরও তিনজন করোনা সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফলে হাসপাতাল নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মাহমুদ ইমতিয়াজ বলেন, তৃতীয় ধাপে সংক্রমণের ধরন অনেক বেশি ছদ্মবেশী। রোগী যখন হাসপাতালে পৌঁছায়, তখন তার অবস্থা অনেকটাই খারাপ হয়ে থাকে। আমাদের উচিত দ্রুত পরীক্ষা ও আইসোলেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। করোনার আগের অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে অবহেলা করলেই মূল্য চুকাতে হবে জীবন দিয়ে। নতুন করে যদি সংক্রমণ ছড়ায়, তবে তা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় সচেতনতা। স্বাস্থ্য অধিদফতর ইতোমধ্যে করোনা পরীক্ষার হার বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে। যশোর সিভিল সার্জন অফিস থেকেও সতর্কতামূলক বার্তা জারি করা হয়েছে। প্রয়োজন এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে এই মৃত্যু মিছিলে নতুন কেউ না যোগ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here