কেশবপুরে টানা বৃষ্টি ও নদের পানিতে এলাকা প্লাবিত

0
149

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টি ও হরিহর নদের পানি ঢুকে যশোরের কেশবপুরে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হতে
শুরু করেছে। টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমন ধানের বীজতলাসহ ৩১ হেক্টর
ফসল আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় হরিহর নদের কেশবপুর অংশে এক ফুট পানি বৃদ্ধি
পেয়ে বিপদসীমায় পৌঁছেছে। নদের পানি ঢুকে পৌরসভার মধ্যকুল খানপাড়া এলাকার
অন্তত ২০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে খোঁজাখালি খালের স্লুইস
গেটের একটি কপাট। ওই ভাঙা কপাট দিয়ে পানি উজানে ঢুকে পড়ায় কেশবপুর সদর
ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে সরেজমিন
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন খোঁজাখালি খালের স্লুইস গেট
এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে ভারি বৃষ্টির কারণে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ গাজীর বসতঘরের উপর
প্রতিবেশী এক ব্যক্তির একটি বড় রেইনট্রি (শিশু) গাছ উপড়ে পড়ায় বসতঘরটি মাটির
সাথে মিশে গেছে। জলাবদ্ধ পৌরসভার মধ্যকুল খানপাড়া এলাকার লিটন শেখ বলেন, গত
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও হরিহর নদের পানি ঢুকে এলাকার অন্তত ২০টি পরিবার জলাবদ্ধ
হয়ে পড়েছে। পানির ভেতর দিয়েই দৈনন্দিন কাজ করতে হচ্ছে। একই এলাকার মমতাজ বেগম
বলেন, গতবছর আগস্ট মাস থেকে এই এলাকার মানুষ ৫ থেকে ৬ মাস পানিবন্দি অবস্থায়
মানবেতর জীবন-যাপন করেছে। এবার তার আগেই পানিবন্দি হয়ে পড়তে হয়েছে।
কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আলাউদ্দীন আলা বলেন, কেশবপুরে
জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে হরিহর নদের ৮ কিলোমিটার অবিলম্বে খনন করতে হবে। তা-না
হলে কেশবপুর উপজেলাসহ পাশের মনিরামপুরের কিছু এলাকা এবারও বন্যার পানিতে
প্লাবিত হয়ে পড়বে। গতবারেও থেকেও ভয়াবহ অবস্থায় রূপ নেবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুমন শিকদার বলেন, হরিহর নদের
কেশবপুর অংশে এক ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমায় পৌঁছেছে। জরুরি ভিত্তিতে
হরিহর নদের কেশবপুর সদর হতে বড়েঙ্গা পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার ও আপার ভদ্রা নদী নুরানিয়া
পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার খনন করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা
হয়েছে। খোঁজাখালি খালের স্লুইস গেটের ভাঙা কপাট বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া
হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ১২ হেক্টর
আমন ধানের বীজতলা, ১৮ হেক্টর পাট ও এক হেক্টর সবজি আক্রান্ত হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, খোঁজাখালি খালের
স্লুইস গেটের কপাট ভেঙে যাওয়ার খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত জিও
ব্যাগ দিয়ে ওই স্থান বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। পরিবর্তীতে স্থায়ী সমাধান
হিসেবে ওই কপাট ঠিক করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কেশবপুরে জলাবদ্ধতা
নিরসনে নদের পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে দুয়েকদিনের ভেতর কচুরিপানা অপসারণ শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here