বেনাপোল থেকে এনামুল হকঃ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যস্ত স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে রেল ও সড়কপথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বড় ধস নেমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেই এ বাণিজ্যে ২৯ হাজার মেট্রিক টন হ্রাস পরিলক্ষিত হয়েছে।
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণের পর ভারতের পক্ষ থেকে একের পর এক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে আমদানিকারকরা গুরুত্বপূর্ণ পণ্য যেমন সুতা, গুঁড়ো দুধ, প্রিন্ট পেপার, পেপার বোর্ড ও তামাক আমদানি করতে পারছেন না। পাশাপাশি, পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাব ও ফল রফতানিও বন্ধ রয়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেলপথে যেখানে ৪১ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছিল, সেখানে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে মাত্র ১২ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে ১ হাজার ২৯৬টি ওয়াগনে। রফতানির জন্য অনুমোদন থাকলেও বেনাপোল রেল স্টেশনে আজও কোনো কার্গো ইয়ার্ড নির্মিত হয়নি, ফলে রেলে রফতানি কার্যক্রম এখনও চালু হয়নি।
আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বেনাপোল বন্দরের অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও ভারতের নিষেধাজ্ঞা মিলিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, “রেলপথে রফতানি চালু করা গেলে খরচ কমে যাবে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য তা অনেক সহায়ক হবে।”
বেনাপোল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, রেল স্টেশনে দ্রুত কার্গো ইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্য কমে যাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
বাণিজ্য পরিস্থিতির এই সংকট কাটিয়ে উঠতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে কার্যকর আলোচনা ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।















