অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোর-খুলনা মহাসড়কের অভয়নগর উপজেলার বিভিন্ন অংশে গড়ে ওঠা বালুর
ড্যাম্পের কারণে নষ্ট হয়ে পড়ছে সড়কটি। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ
মানুষ ও পরিবহণ শ্রমিকরা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের গা ঘেঁষে গড়ে ওঠা
এসব ড্যাম্প এলাকায় মারাত্মক পরিবেশদূষণও ঘটাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক
নীরবতা ও নজরদারির অভাবেই সড়কটি ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, যশোর-খুলনা মহাসড়কের নওয়াপাড়া থেকে যশোর পালবাড়ি মোড়
পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কারকাজ ২০১৭ সাল থেকে চলছে। কয়েক দফায়
কার্পেটিং করা হলেও তা টেকেনি। কিছুদিনের ব্যবধানেই কার্পেটিং উঠে
গিয়ে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। উপজেলার আলীপুর থেকে
প্রেমবাগ উড়োতলা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা ভয়াবহ। এসব স্থানে গভীর গর্তে
প্রায়ই যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের পাশঘেঁষে গড়ে ওঠা অন্তত ৫ থেকে ৬টি বড় বালুর
ড্যাম্পের কারণেই মূলত মহাসড়কের এই সংকট। এসব ড্যাম্প থেকে পড়ে থাকা
বালু রোদে উড়ে বাতাসে ধুলার ঝড় তোলে আর বৃষ্টির সময় তা কাদা হয়ে দুর্ঘটনার
কারণ হয়। বালু জমে থাকায় পানি বের হতে পারে না। ফলে কার্পেটিং করা সড়ক
দ্রুতই উঠে গিয়ে গর্তে পরিণত হয়। এতে পরিবহণ শ্রমিক ও যাত্রীদের মাঝে
আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়া, এ মহাসড়ক দিয়ে মোংলা ও নওয়াপাড়া নৌবন্দর, বেনাপোল-ভোমরা
স্থলবন্দরসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্য দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহণ করা হয়। প্রায়
১০টি জেলার যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এই মহাসড়ক ব্যবহার হয়। নওয়াপাড়া থেকে
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সারের চালান সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু সড়কের এই
বেহাল দশার কারণে সার পরিবহনও এখন স্থবির। পরিবহণ মালিকরা রাস্তায় ট্রাক
চালাতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গালাম কিবরিয়া
বলেন, ‘যে যখন ক্ষমতায় থাকে তারা ক্ষমতার জোরে এসব করছে। তবে আমরা খুব
দ্রুতই ব্যবস্থা নেব।’
এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ
প্রতিম শীল বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আইনগত পদক্ষেপের প্রস্তুতি
চলছে। দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’















