চলছে যশোর জনতা হসপিটাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারটি !!!

0
266

বিশেষ প্রতিনিধি : অনিয়ম আর চরম অব্যবস্থাপনায় চলছে যশোর শহরের জনতা হসপিটাল এন্ড
ডায়গনস্টিক সেন্টার। এখানে নেই কোন নিজস্ব চিকিৎসক। নেই কোন ডিগ্রিধারী
নার্স। অপারেশন থিয়েটারে নেই কোন ওটি লাইট। নেই হসপিটাল আর ডায়গনস্টিক সেন্টারের
বৈধ লাইসেন্স। পরমানু কমিশনের সার্টিফিকেট বা অনুমোদন ছাড়াই চলছে এক্স-রে বিভাগের
কাজ। সিল সর্বস্ব প্যাথলজিক্যাল রিপোর্টে চলছে রোগীদের সাথে প্রতারনা। নেই দক্ষ কোন
জনবল। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র তো ছিলো না কোন দিনই। কেবলমাত্র গ্রাম্য কোয়াক
ডাক্তারদের ওপর ভর করে খোদ শহরের বুকে এমন একটি হসপিটালের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষসহ ক্ষতিগ্রস্থরা। বিষয়টি নিয়ে
জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটি ও জেলা মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির একাধিক সভায় জেলা
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ
হাসান টুকুন, যশোর চেম্বারের সভাপতি মিজানুর রহমান, দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক
শান্তনু ইসলাম সুমিত, দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার নূর ইসলাম, জেলা ওলামা দলের
সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোশারফ হোসেনসহ একাধিক বক্তা আলোচনা করেন। সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মহোদয়ও এসব ভূয়া হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
গ্রনার্থে করনীয় বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সভার সভাপতি মহোদয় এসব
অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সিভিল সার্জনকে নির্দেশনাও প্রদান করেন।
কিন্তু অদ্যাবধি সেই বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেননি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল
সার্জন। এসব বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানার দৃষ্টি আকর্ষন করা হলেও
কোন সদুত্তর মেলেনি। সূত্র বলছে, এই ধরনের অবৈধ হসপিটাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে
মাসিক চুক্তি থাকায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এসব অনিয়ম আর দূনীতি দেখেও না দেখার ভান করেন।
সূত্র বলছে, আজ থেকে প্রায় ২ যুগ আগে যশোর সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি ২৫ বছরের চুক্তিতে
লীজ নিয়ে যশোর জেল রোডে জনতা হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি গড়ে ওঠে। শুরুতে
এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন বা লাইসেন্স
গ্রহণ করলেও গ্রহণ করেননি পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং পরমানু কমিশনের অনুমোদনপত্র ছাড়া কোন ক্রমেই হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও এক্স-রে বিভাগ পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু এক অজানা রহস্যে যশোর শহরের
প্রাণকেন্দ্রে বছরের পর বছর ধরে এই ভূয়া প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের নামে মানুষ
ঠকানোর ব্যবসা করে যাচ্ছে। আর এই সব কিছুই সম্ভব হচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কতিপয়
দূর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা আর কর্মচারীর যোগসাজসে। সূত্র বলছে, একটি ডায়াগনস্টিক
সেন্টার পরিচালনার পূর্বশর্ত হচ্ছে দক্ষজনবল ও প্রয়োজনীয় মানসম্মত যন্ত্রপাতি দিয়ে এক বা
একাধিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষ করে বৈধ প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা কমপক্ষে ডিপ্লোমাধারী
ল্যাব এ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ, এমবিবিএস ডিগ্রিধারী প্যাথলোজিষ্ট নিয়োগ করা,
উন্নতমানের রি-এজেন্ট ব্যবহার করা, ডিজিটালাইজিষ্ট পরীক্ষাগার স্থাপনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের
নিয়ম কানুন মেনে চলা। এছাড়া এক্স-রে বিভাগের জন্য বাংলাদেশ পরমানু কমিশনের লাইসেন্সসহ
বৈধ ডিগ্রিধারী টেকনিশিয়ান নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক হলেও ব্যতিক্রম জনতা হসপিটাল
কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২০ বেডের হসপিটালের জন্য সার্বক্ষনিক ২জন এমবিবিএস ডাক্তার ও বৈধ
ডিগ্রিধারী ৬জন ডিপ্লোমা পাস নার্স নিয়োগ করা বাধ্যতামুলক হলেও জনতা হসপিটাল
কর্তৃপক্ষ তা করেননি কোনদিনই। অনেকটা জোড়াতালি দিয়েই তারা এই প্রতিষ্ঠানটি
চালিয়ে যাচ্ছেন রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here