যশোরের হিমাগারে জমে আছে আলু, কৃষকের কপালে চিন্তার ভাজ

0
351

ডি এইচ দিলসান : যশোর জেলার আলু চাষিরা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়।
বাম্পার ফলন পেয়েও বাজারে আলুর দাম অস্বাভাবিক কম থাকায় হিমাগারে রাখা
আলু বিক্রি করেও উৎপাদন খরচ উঠছে না। এতে করে কৃষকদের কপালে চিন্তার
ভাজ পড়ছে, উঠছে মাথায় হাত, অনেকেই লোকসান গুনে হতাশ হয়ে পড়ছেন।
যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হিমাগারগুলোতে এখনো বিপুল পরিমাণ
আলু মজুত রয়েছে। একদিকে বাজারে নতুন ফসলের চাপ, অন্যদিকে দাম না
পাওয়ায় হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকরা। এতে উৎপাদন
খরচ উঠানো তো দূরের কথা, হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ও পচে যাওয়ার আশঙ্কায়
মাথায় হাত পড়ছে কৃষকদের।
যশোর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম বলেন জেলায় ৩০ লক্ষ
মানুষের বছরে ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ৭শ ৫১ মে.টন আলুর চাহিদার তুলনায় জেলার ৮
উপজেলার আলু চাষিরা উৎপাদন করেছে ৩৬ হাজার ৩শ ৪৮ মে.টন। যেটা ছিলো
লক্ষ মাত্রার চেয়ে বেশি। যদিও এই ৩৬ হাজার ৩শ ৪৮ মে.টন আলু সংরক্ষনের জন্য
যশোরের ৮ উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলায় ১২টি হিমাগার আছে। সেখানে
ধারন ক্ষমতা আছে মাত্র ৪৩ হাজার ৯শ ৬০ মে.টন আলু।
এর মধ্যে যশোর জেলার কৃষকদের আলু সংরক্ষিত আছে ২৪ হাজার ৪শ ৪০ মে.টন।
বাকী জায়গা দখল করে আছে উত্তর অঞ্চলের আলু। ব্যবসায়ীরা অল্প দামে আলু এনে
হিমাগারে রেখেছিলো অধিক মুনাফার আশায়। যদিও দাম বৃদ্ধি না পাওয়ার
কারনে কুষকের সাথে ব্যবসায়ীদেরও গুনতে হচ্ছে লুকসান। অন্যদিকে কৃষকরা
হিমাগারে জায়গা না পেয়ে উৎপাদিত অতিরিক্ত আলু বাড়িতে রেখে পচিয়ে
ফেলছে। উৎপাদিত আলুর মধ্যে প্রায় ১৪হাজার মে. টন আলু বাইরে নষ্ট হচ্ছে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য মতে যশোর জেলার মনিরামপুর,
অভয়নগর এবং কেশবপুরে কোন হিমাগার নাই। যশোর সদরের যশোর কোল্ড
স্টোরেজে ২১০০ মে.টন এ আর এ কোল্ড স্টোরেজে ২৬০০ মে.টন, টাওয়ার কোল্ড
স্টোরেজে ৫২০০ মে.টন, সেনা কল্যান কোল্ড স্টোরেজে ৪০০০ মে.টন, আলী কোল্ড
স্টোরেজে ১৬৪০ মে.টন এবং বিএডিসি হিমাগারে ১ হাজার মে.টন আলু
রাখা যায়। এ ছাড়া শার্শার উলাসী কোল্ড স্টোরেজে ১৫০০, চৌগাছার
ডিভাইন কোল্ড স্টোরেজে ৬ হাজার ও ডিভাইন এগ্রো কোল্ড স্টোরেজে ৪
হাজার মে. টন আলু সংরক্ষন করা যায়। এছাড়া ঝিকরগাছার রজনীগন্ধায় ৬৫০০
মে.টন ও গদখালি কোল্ড স্টোরেজে ৪৪২০ মে.টন আলু সংরক্ষন করা যায়। এদিকে
বাঘারপাড়া সরদার রোকেয়া কোল্ড স্টোরেজে ৫ হাজার মে.টন আলু রাখার ব্যবস্থা
আছে। বর্তমানে যশোরের বিভিন্ন বাজারে পাইকাড়ি প্রতি কেজি আলু বিক্রি
হচ্ছে ১৩ থেকে ১৮ টাকায়। অথচ উৎপাদন ও সংরক্ষণ মিলিয়ে প্রতি কেজি
আলুর খরচ পড়েছে ২০ থেকে ২২ টাকা। স্থানীয় চাষিরা বলছেন, প্রতি বস্তা
আলু হিমাগারে রাখতে খরচ হয়েছে ৪০০ টাকা। এখন সেই আলু বিক্রি করে
তারা প্রতি বস্তায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনছেন।
সদর উপজেলার কৃষক মো. আনোয়র হোসেন বলেন ্য়ঁড়ঃ;হিমাগারে রাখার সময়
ভেবেছিলাম কিছু লাভ হবে। এখন তো মনে হচ্ছে রাখাই বড় ভুল হয়েছে।
একদিকে ঋণের চাপ, অন্যদিকে বাজারে ক্রেতাও কম।্য়ঁড়ঃ; যশোর সদর ও অভয়নগর,
কেশবপুর, মনিরামপুর এলাকায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। হিমাগারে এখনো
বিপুল পরিমাণ আলু মজুদ রয়েছে, কিন্তু বিক্রির কোনো নিশ্চয়তা নেই।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কৃষকদের এই সংকট থেকে রক্ষা করতে হলে সরকারকে
দ্রুত বাজারে হস্তক্ষেপ করতে হবে। ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ, সরাসরি কৃষকের
কাছ থেকে আলু ক্রয় এবং এক্সপোর্ট (রপ্তানি) ব্যবস্থা সহজ করা এখন সময়ের
দাবি। এদিকে অনেক চাষি আশঙ্কা করছেন, যদি এমন পরিস্থিতি চলতেই থাকে,
তবে আগামী মৌসুমে আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেকেই। যা ভবিষ্যতে
খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here