শালিখায় বিরামহীন বৃষ্টি ও উজানের পানিতে ভাসছে ফসলের মাঠ

0
191

নাজমুল হকঃ মাগুরার শালিখা উপজেলায় অবিরাম বৃষ্টি ও উজানের পানিতে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, পুকুর, মাছের ঘের, রাস্তা ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থসেবা কেন্দ্র, বসত বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। বিস্তৃত ফসলের মাঠ গুলো যেন সাগরের ঢেউ উঠে দোল খাচ্ছে। এতে ধান, শাকসবজি এ মৌসুমের প্রায় সব ধরনের ফসল ও মাছের মারাত্মক ক্ষতির মুখে। এরপরও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে আরও ক্ষতির আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার হাজার হাজার কৃষক ও মৎস্য চাষীরা ও সাধারন মানুষ। উপজেলার ৯৫ ভাগ আমন ধান লাগানোর কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিছু জমি বাকি থাকলেও বীজতলা তলিয়ে যাওয়ার কারণে আর রোপণ সম্ভব হবে না। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে এবং বন্যার পানিতে অনেক জমিতেই ফসলের আর তেমন কোনো চিহ্ন নেই, চারদিকে শুধুই থইথই পানি। মনে হচ্ছে যেন বিস্তীর্ণ ফসলি জমি যেন সাগরে পরিণত হয়েছে। একই সাথে দেখা যায়, চটকাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেওজগাতি আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ধনেশ্বরগাতি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ধনেশ্বর গাতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চার পাশে পানি থৈথৈ করছে। পানি উঠে গেছে ধনেশ্বরগাতি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক। এছাড়া ধনেশ্বরগাতি, সেওজগাতি, চতিয়া, গোবিন্দ পুর,থৈ পাড়া, টিওরখালী, দীঘলগ্রামের শতাধিক বাড়িতে। তালখড়ি গোবিন্দপুর সড়ক, টিওরখালী উজগ্রাম সড়ক ধনেশ্বরগাতি থৈ পাড়া সড়ক সহ অনেক সড়ক তলিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। শতখালী ইউনিয়নের শতখালী গ্রামের সরদার পাড়ার কৃষক জসিম উদ্দিন জানান, তিনি প্রায় সাড়ে ৭বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছিলেন। এক মাসের পরিশ্রমের পর ধান গাছ বড় হয়ে গেলেও এখন সবই পানির নিচে। শুধু ফসলই নয়, ক্ষতি হয়েছে মাছ চাষেও। শালিখা উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে প্রায় ২৭.৯ হেক্টর পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে। তালখড়ি গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি এবং বন্যার পানিতে পুকুর, মাছের ঘের এবং ফসিল জমি আমাদের সব শেষ! ’আমাদের এখন আর কোন ফসল নাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here