ভবদহ অঞ্চলের মানুষের আর্তনাদ… অভিশপ্ত জলাবদ্ধতার অবসান চায়, সাপ,ব্যাঙ্গ আর জলজ প্রাণির সাথে বসবাস করতে চায় না

0
165

রাহাত আলী,মনিরামপুরঃ “আমরা হচ্ছি জলজ প্রাণী,সাপ,ব্যাঙ্গ,পোঁকা-মাকড়ের সাথে
আমাদের বসবাস। সরকার ও আমলারা মিলে আমাদের জলজ প্রাণি
বানিয়ে রাখছে। আমরা আর জলজ প্রাণি হয়ে বাঁচতে চায়
না।ভবদহের জলাবদ্ধতার অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান না হলে
ভুক্তভোগী কৃষক শ্রমিক জনতা নিয়ে রাজপথে অবস্থান করবো।এর
একটি সমাধান হলে ঘরে ফিরবো না”। ভবদহ অঞ্চলে ভবদহ
জলাবদ্ধতার বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চাইলে ভবদহ পানি
নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক রণজিত বাওয়ালী এসব
কথা বলেন। যশোরের মনিরামপুর ও অভয়নগর, কেশবপুর এবং
খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ
অঞ্চল। এই এলাকার পানি ওঠানামা করে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও
হরি নদ-নদী দিয়ে। পলি পড়ে নদীগুলো নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে
এসব নদী দিয়ে এখন ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এ
কারণে বৃষ্টির পানি আটকা পড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
টানা বৃষ্টির কারণে ভবদহ অঞ্চলের অন্ততঃ দেড়শতাধিক গ্রামে
স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব গ্রামের বেশির ভাগ
ঘরবাড়ি, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
নদী দিয়ে ঠিকমতো পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় দেখা
দিয়েছে জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধ এসব বাড়ির লোকজন পরিবার নিয়ে
দুর্ভোগে পড়েছেন। কেউ কেউ খোলা রাস্তার পাশের্^ টোং ঘর
বেঁধে মানুষ ও গবাধিপশু একসাথে দিন কাটাচ্ছেন। ভবদহ
জলাবদ্ধতার অন্ততঃ এক মাস অতিবাহিত হলেও পানি না কমায়
জনজীবনে নেমে এসেছে দূর্ভোগ। ভেঙ্গে পড়ছে স্বা¯্য’্য ও
শিক্ষা ব্যবস্থা। দেখা দিয়েছে চরম মানবিক বিপর্যয়।
ভবদহ অঞ্চলের মনিরামপুর উপজেলার হাটগাছা গ্রামের বিদ্যুৎ
রায় বলেন,একমাস ধরে জলে মধ্যে বাস করছি।জানি না এ
অভিশাপ থেকে কবে মুক্তি পাবো।
কামিনীডাঙ্গা সরোজিৎ রায় বলেন,আমরা বড় কষ্টে আছি।
বাশের সাঁকো কিংবা ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে আমাদের
চলাফেরা ।
লখাইডাঙ্গা গ্রামের গৃহবধূ রীতা মণ্ডল(৪২) বলেন,
গরু,ছাগল,হাসমুরগী নিয়ে বিপাকে পড়েছি।একদিকে
থাকার জায়গা নিয়ে,অন্যদিকে তাদের খাবার যোগাড়
নিয়ে।সব মিলে খুব কষ্টে আছি আমরা।
সুজাতপুর গ্রামের নিমাই চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে
এখনও বাড়িতে আছি অনেকে ঘর বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয়
নিয়েছেন।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব চৈতন্য
পাল বলেন, ভবদহ অঞ্চলের অন্ততঃ দেড়শতাধিক গ্রাম পানিতে
তলিয়ে গেছে।তলিয়ে গেছে আবাদি ফসল,শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান,ধর্মীয় উপাসনালয়। এক মাস ধরে পানিবন্দী হয়ে
মানবেতর জীবন-যাপন করছেন এ জনপদের মানুষ। জলাবদ্ধতা
নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো)নানা প্রকল্প গ্রহন
করলেও গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতার কারনে ফের
জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে
সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয় হেেয়ছে।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত
বাওয়ালী বলেন, তিনি ক্ষোভ করে বলেন,“আমরা হচ্ছি জলজ
প্রাণী,সাপ,ব্যাঙ্গ,পোঁকা-মাকড়ের সাথে আমাদের বসবাস।
সরকার ও আমলারা মিলে আমাদের জলজ প্রাণি বানিয়ে রাখছে।
আমরা আর জলজ প্রাণি হয়ে বাঁচতে চায় না।ভবদহের জলাবদ্ধতার
অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান না হলে ভুক্তভোগী কৃষক শ্রমিক জনতা
নিয়ে রাজপথে অবস্থান করবো। এর ফলপ্রসু সমাধান না করে
ঘরে ফিরবো না”।
পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ
কুমার ব্যানার্জী বলেন, ‘নদীতে জোয়ারের সময় ভবদহ
স্লুইসগেটের ২১-ভেন্টের উপর চারটি বড় ও ১৫টি ছোট
বৈদ্যুতিক সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সেচে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এ
ছাড়া ভাটির সময় ছয়টি গেট খুলে দেওয়া হচ্ছে। গেটগুলো
দিয়ে প্রচুর পানি বের হচ্ছে। এতে এলাকার পানি দ্রুত সরে
যাবে।’ তিনি বলেন, ‘ভবদহ এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য
সেনাবাহিনী আগামী মাসে ছয়টি নদীর ৮১ দশমিক ৫
কিলোমিটার খননকাজ শুরু করবে। এ ছাড়া আমডাঙ্গা খাল
সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। দুই-এক মাসের
মধ্যে আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here