মধ্যরাতে যুবলীগ নেতা রেজাউল ইসলাম (৫০) কে গলা কেটে ও উপযুক্তপুরি কুপিয়ে হত্যা

0
202

চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি : মঙ্গলবার যশোর সদরের কাশিমপুর ইউনিয়নের দৌলতদিহি গ্রামে মধ্যরাতে যুবলীগ নেতা রেজাউল ইসলাম (৫০) কে গলা কেটে ও উপযুক্তপুরি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত রেজাউল ইসলাম গ্রামের গোলাম তরফদারের ছেলে।
হত্যার পর থেকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে গোটা এলাকায়।
হত্যার পর পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের আটকে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা রেজাউল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় বাড়ির পাশে। পরে তাকে বাড়ির পাশেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা । খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্ত্রী শিউলি বেগম জানান,
রাত ১২ টার দিকে সে ও তার স্বামী রেজাউল ইসলাম বাড়ির ছাদের উপর ছিলেন। এ-সময় একটা ফোনে রেজাউলকে বাইরে চা খাওয়ার জন্য কে বা কারা ডাকেন।
তিনি আরো জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছু সময় পর তিনি জানতে পারেন তার স্বামীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন গ্রামের মানুষ এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত।
স্থানীয়রা জানান, নিহত রেজাউল ইসলাম যুবলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিগত দিনের রেজাউল এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহতের ভাগনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক কোন্দলে তার মামাকে খুন করা হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে , নিহত রেজাউল ইসলাম কিলার মকলেছুর রহমান নান্নুর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন। রেজাউল ইসলাম নিজেই একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিলেন।তার নামে হত্যা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। সাম্প্রতি সে সন্ত্রাসী পথ ছেড়ে দিয়ে কৃষিকাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে কি কারণে রেজাউল খোর হয়েছে তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানান গুঞ্জন। বিগত দিনে তার অত্যাচার এলাকার অতিষ্ঠ ছিল। হয়তোবা সেই কারণে পূর্বের জেরে রেজাউলকে হত্যা করতে পারে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা।
১৯৮৯ সালে রেজাউলের বাবা গোলাম তরফদার ও ভাই ইনছার তরফদার কে একটি ঘটনায় দৌলতদিহি গ্রামে পিটিয়ে জোড়া মার্ডার করেন একটি পক্ষ।
একই পরিবারের আবারও খুন হওয়ায় গ্রাম জুড়ে দেখা দিয়েছে চরম আতংক।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)আবুল হাসনাত বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরো জানান, পুলিশের একাধিক টিম হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে।
এদিকে মাগরিব বাদ জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here