স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে : যশোর পৌর এলাকাকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে যশোর পৌর প্রশাসকের
একটি মানবিক উদ্যোগ জনপ্রশংসায় ভাসছে। গত বছর গুলোর তুলনায় এভচর বৃষ্টির পরিমান কয়েকগুন
বেশি হলেও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেয়েছেন যশোর পৌর এলাকার বাসিন্দারা। যার কারনে পৌরবাসীর শুভেচ্ছা
আর অভিনন্দনে সিক্ত হচ্ছেন পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান। তবে তিনি বলছেন, তিনি যা করেছেন তা
তার দায়িত্ববোধ থেকেই কেেরছন। এটাই করা উচিৎ ছিলো। তবে কেনো গত ১৫/২০ বছরে যশোর পৌর
সভার নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরা এই কাজটি করেননি তাবোধগম্য নয়। যার কারনে প্রকি বছর বর্ষা
মৌসুমে যশোর পৌর সভার একটা বিরাট অংশ তীব্র জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হতো।
দীর্ঘদিন পর চলতি বছরের শুরুর দিকে যশোর পৌর সভার প্রশাসক ডিডিএলজি (উপসচিব) রফিকুল
হাসান যশোর পৌর এলাকার ড্রেনেজ পরিস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আর এই কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন
করার জন্য পৌর প্রকৌশলী শাখা ও পানি সরবরাহ শাখার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তার পর নিজে
সরেজমিনে তদারকির মাধ্যমে ৭/৮ মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে যশোর পৌর এলাকার প্রায় সকল ড্রেন
পরিস্কার করে টন টন ময়লা কাদা উত্তোলন করা হয়। জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম নিজেও এই কাজ
সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। ৫/৭ ফুট গভীর এসব ড্রেন গুলো কাদা,মাটি ও বিভিন্ন ময়লা আবর্জনায়
পরিপূর্ণ ছিলো। সামান্য বৃষ্টিতেই যশোর শহরের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবনে দূর্ভোগ
সৃষ্টি করতো। জন চলাচল বিঘ্নিত হতো। ড্রেন গুলো পানি নিষ্কাশনের অনুপযোগী হয়ে যাওয়ার কারনে
পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হতো। মানুষের বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়তো।
এমন পরিস্থিতিতে পৌর প্রশাসকের নান্দনিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবছর যশোর শহরবাসীকে
জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করেছে। বৃষ্টির পর পরই এসব ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাসিত হয়ে ভৈরবে না হয়
বিল হরিনা অথবা শহরের আশেপাশের বিভিন্ন নদী ও খালে গিয়ে পড়েছে। ফলে শহরবাসীকে বাড়তি
জলাবদ্ধতার দূর্ভোগ পোহাতে হয়নি।
আর এই কাজের সাথে যারা সরাসরি সম্পৃক্ত সেই শ্রমিকদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করলেন
পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান। গতকাল
শুক্রবার দুপুরে পৌর সভায় এই ভুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়। সকল শ্রমিক সাধ্যমতো পরিস্কার
পরিচ্ছন্ন পোষাকে সাজগোজ করে হাঁসি মুখে এই ভোজসভায় যোগ দেন।
জুম্মার নামাজের পরে জেলা প্রশাসক শ্রমিকদের সাথে ভোজ সভায় অংশগ্রহণ করেন। এসময় জেলা
প্রশাসকের সাথে ছিলেন পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসানসহ পৌরসভার কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক সবকটি খাবার টেবিল ঘুরে ঘুরে শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের পরিবার
পরিজনের খোঁজখবর নেন। জেলা প্রশাসককে এভাবে তাদের পাশে পেয়ে শ্রমিকরা আবেগ আপ্লূত হয়ে
পড়েন। তারা অনেকেই আনন্দে আত্নহারা হয়ে ওঠেন। তারা মেতে ওঠেন সেলফি মুডে। ডিসি স্যারের
সাথে তারা সেলফি তুলে আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেন।
জেলা প্রশাসক উপস্থিত মেহমানদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এই শহর আমাদের সকলের। এই শহরকে পরিস্কার
পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও আমাদের সকলের। আপনারা গত ৬/৭ মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে যশোর শহরকে
জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করেছেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটিয়েছেন। যার ফলে এবছর ভারি
বর্ষাতেও যশোর শহরের নিন্মাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। জনগণ জলাবদ্ধতার দূর্ভোগ থেকে রেহায়
পেয়েছেন। যার জন্য তিনি এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান।
পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান এরকম একটি মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করায় শ্রমিকরা তাদের প্রিয় স্যারকে
ধন্যবাদ জানান। তাদের অনেকেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আজকের এই আয়োজন আমাদেরকে যারপরনাই
মুগ্ধ করেছে। আমরা কোন দিনও আজকের এই দিনটিকে ভুলতে পারবো না। আমরা কল্পনাও করিনি আমাদের
রফিকুল স্যার এরকম একটি মহৎ আয়োজন করে আমাদেরকে এভাবে চেয়ার টেবিলে বসিয়ে খাওয়াবেন।
ডিসি স্যার আমাদের পাশে এভাবে এসে আমাদের খোঁজ খবর নিবেন।
তারা আবেগজড়িত কন্ঠে বলেন,আমরা অনেকেই ২০/৩০ বছর ধরে পৌর সভায় সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এক
সময়তো কাজ করেও ঠিক মতো মুজুরীটাও পেতাম না। আর রফিকুল স্যারের আমলে আমরা কাজ করার সাথে
সাথে ন্যায্য মজুরী তো পাচ্ছিই,তাছাড়া বিপদ আপদে স্যারের কাছে কোন আবদার করলে স্যার চেষ্টা
করেছেন সেই আবদার পূরণ করার। আবার আজকের এই আয়োজন করে আমাদের যে ভাবে স্যার সম্মানীত
করলেন তা ভাষায় প্রকাশ করে শেষ করা যাবে না। স্যারের জন্য আমাদের দোয়া সব সময় থাকবে। ###















