স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খুলনা বিভাগ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, জাতি নির্বাচনের ট্রেনের উঠে পড়েছে। এই ট্রেন থামানোর ষড়যন্ত্র চলছে। যারা নির্বাচনী ট্রেনকে বাঁধা গ্রস্থ করতে চায়, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তাই নিজের এবং দলের ক্ষুদ্র স্বার্থে জনগণের কাঙ্খিত স্বপ্ন কে গলা টিপে হত্যা করবেন না।
বিএনপির ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত র্যালী পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। টাউন হল ময়দানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার বক্তব্যের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ দলের প্রয়াত সকল নেতাকর্মীকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাদের রহের মাগফিরাত কামনা করেন। এছাড়াও দলের সাবেক জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আজিজুর রব খান, চৌধুরী শহিদুল ইসলাম নয়ন, শামসুল-হুদাসহ দলের প্রয়াত সকল নেতা কর্মীকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
সমাবেশে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের সংকটকালে অর্ন্তবর্তীকালী সরকারের প্রধান প্রফেসর ড. মো. ইউনুস জাতির সামনে ত্রাতা হিসেবে আর্বিভূত হয়েছেন। তিনি উপলদ্ধি করেছেন, অনির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে চলতে পারে না। সেটি দেশের জন্য মঙ্গল হয় না। সেই উপলদ্ধি থেকে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার আগামী নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। আসুন সবাই বিএনপি যে ভাবে তাকে সহযোগিতা করেছে সকল ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তি একই ভাবে সহযোগিতা করি। করে জনগণের প্রত্যাশা নতুন বাংলাদেশ বির্নিমাণ করি। যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা, দরিদ্র মুক্ত। সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাকে সহযোগিতা করলে, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচিন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচণে জনগণ তার পছন্দের ব্যাক্তিকে বেছে নিতে পারবে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল শক্তি মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবো।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের সাথে থাকার পরও দুর্ভাগ্য বশত আজ তাদের মুখ থেকে নব্য ফ্যাসিবাদের প্রতি ধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। দেশে গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমে মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার ফেরৎ পাবে। জনগণ যার ওপর আস্থা রাখবে তাকেই ভোট দেবে। যাদের নিজের এলাকা থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা কঠিন, তারাই প্রচলিত নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তে পি আর পদ্ধতির কথা বলছে। তাদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সকল শক্তি নিয়ে বিএনপি আগামী নির্বাচনে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেলে তাদেরকে সাথে নিয়ে সরকার গঠন করবেন। বিগত তিনটি নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করেছিলেন। সেই নির্বাচনে দেশের তরুণ-যুবকসহ সমগ্র জনগণের ভাটের অধিকারকে রুদ্ধ করেছিল। সেই একই ঘটনা পুনরাবৃত্তির ষড়যন্ত্র হচ্ছে, কারণ ষড়যন্ত্রকারীরা জনগণকে ভয় পায়। ভোট হলে জনগণ যদি বিএনপিকে ভোট দেয়। আপনি রাজনীতি করেন দেশ ও জনগণের জন্য। আপনি যদি জনগণকে ভয় পান, তাহলে আপনার রাজনীতির করার কথা নয়, নাগরিক সমাজের অংশ হয়েছেন। জনগণের দল হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবেন, এটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। যারা তরুণ-যুবকদের ভোটের অধিকার রুদ্ধ করতে চায়, তাদের মধ্যে আর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কোন পার্থক্য নেই। শেখ হাসিনা যে ভাবে দেশকে গণতন্ত্রহীন রেখে জুলুম নির্যাতন করেছিলেন, সেই রকম অবস্থায় জনগণ আর ফিরে যেতে চায় না।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। নিজেদের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া জোরদার করে জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে। দেশের রাজনীতির আকাশে আবারও কালো মেঘের ঘনঘাটা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৬ বছরের অনেক ষড়যন্ত্র এবং নীল নকশা দেখেছি। ষড়যন্ত্রের সমাধান সূত্র হচ্ছে, নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী এবং মজবুত করা। নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচির সাথে জনগণের সম্পর্ক বাড়ানো। যদি নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি জোরাদার করে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য তৈরি করে জনগণে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে পারি। নতুন বাংলাদেশ বির্নিমাণে রাষ্ট্র মেরামতে তারেক রহামন যে ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে পারি, তাহলে যতই ষড়যন্ত্র হোক না কেন? বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা রুদ্ধ করার শক্তি তাদের নেই।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল বারী রবু, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মারুফুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল প্রমুখ। সমাবেশ শেষে অধ্যাপক নার্গিস বেগম এবং অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে টাউন হল ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়। র্যালীটি দড়াটানা মোড়, চৌরাস্তা মোড়, আর এন রোড় হয়ে মনিহারে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে সকালে জেলা বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিথ থেকে গাছের চারা বিতরণ করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।















