যশোরে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন সুলতানা রাজিয়া

0
214

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৫ উপলক্ষে যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক
এবং খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত
হয়েছেন যশোরের নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ১৩৫নং পাঁচবাড়িয়া বালিয়াডাঙ্গা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুলতানা রাজিয়া। প্রাথমিক গুণী
শিক্ষক পদক- ২০২৫ এ তিনি এ গৌরব অর্জন করেন।
এর মধ্য দিয়ে তিনি তৃতীয় বারের মতো জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত
হলেন। এর আগে ২০২৪ সালেও তিনি জেলা পর্যায়ে একই সম্মান অর্জন করেন এবং
বিভাগীয় পর্যায়ে ইনোভেশন শোকেসিং এ প্রথম স্থান লাভ করে জাতীয় পর্যায়ে
অংশগ্রহণ করেন। একই বছর ধ২র পরিচালিত শিক্ষক বাতায়ন কর্তৃক “সেরা
উদ্ভাবক” হিসেবে স্বীকৃতি পান।
সুলতানা রাজিয়া ২০০৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন।
বর্তমানে তিনি ২০১৪ সাল থেকে পাঁচবাড়িয়া বালিয়াডাঙ্গা সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। দায়িত্বশীল ও সৃজনশীল এই শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষায়
আইসিটি ব্যবহারে বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষক বাতায়নে তিনি ওঈঞ জেলা
অ্যাম্বাসেডর ও ঞবধপযবৎং ঝঁঢ়ঢ়ড়ৎঃ ঘবঃড়িৎশ (ঞঝঘ) সদস্য হিসেবে সারাদেশের
শিক্ষকদের আইসিটি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সহায়তা
করে আসছেন। এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে
ধন্যবাদপত্রও পেয়েছেন। এছাড়া তিনি চাহিদা ভিত্তিক সাবক্লাস্টার প্রশিক্ষক
হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
শিক্ষাদানে সুলতানা রাজিয়া সর্বদা আনন্দমুখর ও সৃজনশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ
করে যাচ্ছেন। ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার, সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনা ও
নৈতিক–মানবিক মূল্যবোধ গঠনে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। বিদ্যালয়ে
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৯০ শতাংশের বেশি এবং ঝরে পড়া নেই যা- তাঁর
নিরলস প্রচেষ্টার ফল।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎকার ও
ডকুমেন্ট যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলা থেকে নির্বাচিত গুণী
শিক্ষকদের মধ্যে থেকে সুলতানা রাজিয়া শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। একাডেমিক ফলাফল,
শিক্ষকতার সময়কাল, গবেষণা ও প্রবন্ধ, পাঠদানের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষণ কৌশল সব
ক্ষেত্রেই তিনি এগিয়ে থাকায় এ সম্মাননা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করে সুলতানা রাজিয়া বলেন, “আমি কখনো শ্রেষ্ঠত্বের জন্য
কাজ করিনি, কাজই আমাকে শ্রেষ্ঠ করেছে। ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ আর
আন্তরিকতা থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। এই অর্জন আমাকে ভবিষ্যতে আরও
উৎসাহিত করবে। আমার এই সাফল্য আমার শিক্ষার্থী, সহকর্মী,যশোরবাসীসহ বড়
ভাই ফকরুল ইসলাম ও আমার শুভাকাঙ্ধসঢ়;ক্ষী সবার জন্য উৎসর্গ করছি।”
তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষক বাতায়ন
কর্তৃপক্ষ (ধ২র, ওঈঞ উরারংরড়হ), সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ পরিবার ও
শুভাকাঙ্ধসঢ়;ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার দোয়া কামনা
করেন।
শিক্ষক সমাজের উন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সুলতানা রাজিয়া যেমন
দায়িত্বশীল শিক্ষক, তেমনি সমাজসেবায়ও অনন্য। শিক্ষকের কণ্ঠস্বরকে সামাজিক
অঙ্গীকারের প্রতিপাদ্য সামনে রেখে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ও জাতি
গঠনে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here