ভৈরব নদে অগভীরতা, ঘন ঘন দুর্ঘটনায় স্থবির নৌবন্দর অর্থনীতি দেড় বছরে ১৫ জাহাজ ডুবি, নওয়াপাড়া নৌবন্দরে নাব্যতা সংকট

0
244

রাজয় রাব্বি, অভয়নগর (যশোর) : যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নদীবন্দর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ
নদীবন্দর হিসেবে পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে নাব্যতা
সংকট, নদী দখল, সরু চ্যানেল ও জাহাজের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্দরটি দিন
দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। গত দেড় বছরে এখানে ১৫টিরও বেশি পণ্যবাহী
জাহাজ ডুবে গেছে। সূত্র জানায়, নওয়াপাড়া নৌবন্দর মুজতখালী থেকে
আফরাঘাট পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত। এ সময়ে বন্দরে ২
হাজার ৫১৯টি জাহাজে মোট ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮৪৩ মেট্রিক টন পণ্য এসেছে।
এসব থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৬ টাকা। কিন্তু
নদীর গভীরতা ক্রমেই কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল ও পণ্য খালাস দুটোই ঝুঁকিপূর্ণ
হয়ে পড়েছে।
জাহাজ মালিক ও শ্রমিকদের তথ্যমতে, নওয়াপাড়ায় জাহাজ ডুবির চারটি প্রধান
কারণ হলো নিয়মিত খনন না হওয়া, নদী দখল ও চ্যানেল সংকোচন, অদক্ষ মাস্টারদের ভুল
নোঙর, পুরোনো জাহাজের সময়মতো মেরামত না করা।
গত দেড় বছরে সংঘটিত কয়েকটি বড় দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে ৯ ফেব্রুয়ারি
শুভরাড়া এলাকায় ৮৫০ টন ইউরিয়া বোঝাই এমভি সেভেন সিজ-৪ ডুবে যাওয়া; ১৩
এপ্রিল নোনা ঘাট এলাকায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার কয়লাসহ এমভি সাকিব
বিভা-২ ডুবি; ২৫ জানুয়ারি সিদ্দিপাশায় ৭০০ টন গমবোঝাই এমভি ওয়েস্টার্ন-
২ কাত হয়ে ডুবে যাওয়া। এছাড়া ১৫ ডিসেম্বর এমভি আর রাজ্জাক, ১৫ জানুয়ারি
এমভি পূর্বাঞ্চল-৭ ও ১৩ জানুয়ারি এমভি মৌমনি-১ ডুবে যায়।
এমভি সাকিব বিভা-২ এর মাস্টার জুয়েল হোসেন বলেন, ‘ভাটার সময় জাহাজ
নামানোর সময় তলদেশে থাকা শক্ত পাথরে আঘাত লেগে জাহাজ ধীরে ধীরে ডুবে
যায়।’ জাহাজ শ্রমিক সরোয়ার রানা বলেন, ‘নদীতে জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে,
কিন্তু নোঙর করার জায়গা খুবই কম। পানি কমে যাওয়ায় জাহাজ চালকরা ভয়াবহ
দুর্ভোগে পড়ছেন।’
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখার সদস্যসচিব নিয়ামুল
ইসলাম রিকো বলেন, ‘নওয়াপাড়া নদীকেন্দ্রিক বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র হলেও নদীর
নাব্যতা ক্রমেই কমছে। পানি কমতে কমতে নদী ছোট হয়ে আসছে। ফলে দুর্ঘটনা
এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
নওয়াপাড়া সার ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল
হোসেন বলেন, ‘নাব্যতা সংকট ও ঘাটের সীমাবদ্ধতার কারণে ছোট জাহাজও
ঠিকমতো ভিড়তে পারে না। গাইড ওয়াল নির্মাণের দাবি বহুদিনের, কিন্তু এখনও
হয়নি। পণ্যবোঝাই জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু উন্নয়ন নেই। শুধু ট্যাক্স
দিয়েই যাচ্ছি।’
এ বিষয়ে নওয়াপাড়া নদীবন্দর উপপরিচালক মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের
সবধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ভৈরব নদে নাব্যতা সংকট মোকাবেলায় ড্রেজিং
চলছে। ডুবে যাওয়া জাহাজগুলোর বেশিরভাগই পুরোনো এবং নিয়মিত মেরামত
করা হয়নি। তবে বন্দরের উন্নয়নে সরকার বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। স্থায়ী সীমানা
পিলার স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ চলছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে আরও বেশি জাহাজ
ভিড়তে পারবে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here