শহিদুল ইসলাম : যশোরের শার্শা উপজেলার ঠেঙামারী বিলে নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিলে কচুরিপানা ও জলাবদ্ধতার কারনে এবছরও হাজার হাজার বিঘা জমি পতিত থাকার আশংকা রয়েছে। এসব কারণে বোরো ধান রোপন করা নিয়ে দুঃশ্চিতায় পড়েছেন কৃষকরা।ঠেঙামারী বিলে মাঠ ভর্তি কচুরিপানা। যা পরিস্কার করা দুরহ ব্যাপার। কৃষকদেরও মাথায় হাত। ইরি বোরো মৌসুম আগত। নভেম্বরের শেষের দিকে বীজতলা তৈরীর সময়। এখনো বিল ভর্তি পানি রয়েছে। কবে নামবে বিলের পানি কে জানে? সেই সাথে মাঠ জুড়ে কচুরিপানা। জমিতে পা ফেলানোর জায়গা নেই। ইছামতি নদীর পানি এখনো প্রবেশ করছে বিলে। মাঠে কি ভাবে ধান চাষ করবে বোরো মৌসুমে। এই চিন্তা কুরে কুরে খাচ্ছে চাষিদের। বিলে এখনো ৫ থেকে ৭ ফুট পানি জমে রয়েছে।
স্থানীয়রা কচুরিপানা পরিস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। শনিবার থেকে তারা বিল পরিস্কার করার জন্য কচুরিপানা কাটার যন্ত্র এনেছেন। ম্যাশিনের সাহায্যে কচুরিপানা কেটে জমি পরিস্কার করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, এবছর বিলে এবং খালে যে পরিমান কচুরিপানা জমে রয়েছে। তাতে বোরো ধান লাগানোর কোনো সম্ভাবনাই তারা দেখছেন না। কচুরিপানা পরিস্কার করতে অনেক টাকা ব্যায় হবে। কিন্তু এতো টাকা ব্যায় করে যদি সময় মত বিলের পানি না নামে। তা হলে সমস্ত খরচ বিফলে যাবে।
কৃষক নায়েব আলী জানিয়েছেন ১ বিঘা জমির কচুরিপানা পরিস্কার করতে সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ পড়বে। তাতে কচুরিপানা ঢিবি করতে দুই কাঠা জমি ফেলে রাখতে হবে।
কৃষক আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, মাঠে কচুরিপানা পরিস্কার করা ম্যাশিন আনা হয়েছে। যদি এতে খরচ কমে হয় ও সহজে পঁচে নষ্ট হয় তা হলে তারা কচুরিপানা কাটা ম্যাশিন দিয়ে জমি পরিস্কার করবেন। তিনি আরও বলেন, এতো কিছুর পরেও ধান না হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।
কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, আমরা ঠেঙামারী বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকসই স্থায়ী সমাধান চাই। শুনেছি সরকার খাল সংস্কার ও গেট নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছেন। যদি বাস্তবায়ন হয় তা হলে মাঠে ফসল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হোসেন বলেন, সরকারিভাবে খাল সংস্কার ও দাউদখালী খালমুখে বাঁধ নির্মানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এলাকার সমস্যা কিছুটা লাঘব হবে।















