যশোরে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিনিময় সভা : খাল খননে কৃষি ও জীবিকায়নের উন্নয়ন

0
122

যশোর : রাজকীয় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন
সংস্থা সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও এর সহযোগী সংস্থা জাগরনী চক্র
ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত সফল ফর ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট
(IWRM) প্রকল্পের উদ্যোগে আজ যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা
পর্যায়ের সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে এক মতবিনিময় সভা
অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার যশোর অঞ্চলের ম্যানেজার কৃষিবিদ ড. নাজমুন
নাহার এর সভাপতিত্বে এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো.
আজাহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। একই সংস্থার
সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার কৃষিবিদ ড. এসএম ফেরদৌস এর উপস্থাপনায় ড. নাহার
প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, “এই প্রকল্পের আওতায় যশোরে মোট ২৩টি খাল ও ২টি জলাশয়
পুনঃখনন করা হয়েছে যার দৈর্ঘ্য ২৬.০৪ কি.মি। স্থানীয় কমিউনিটিকে যুক্ত করে
২৪টি মাইক্রো-ওয়াটারসেড কমিটি ও ২৭২টি পানি ব্যবহারকারী দল গঠন করা হয়েছে,
যেখানে মোট সদস্য সংখ্যা ২৭,১৩৬ জন এবং এর মধ্যে ৪৯% নারী। এছাড়াও,
সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন বিষয়ে ৬০ ব্যাচ প্রশিক্ষণ আয়োজনের
পাশাপাশি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১০,৫০,৩৫৫ টাকার একটি তহবিল গঠন করা
হয়েছে।”
প্রধান অতিথি জনাব মোহাম্মাদ আজহারুল ইসলাম (যশোর বলেন, “জলাবদ্ধতার
সমস্যা ৫০ বছরের পুরনো। একসাথে এগিয়ে এলে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব। সমন্বিত
উদ্যোগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সবার সামর্থ্য একত্রিত হলে সামগ্রিক
সক্ষমতা বাড়বে এবং মানুষের ভোগান্তি কমবে।”
সভায় বক্তারা জানান, খাল খনন ও কমিউনিটির দ্বারা এর পরিচালনার ফলে কৃষক ও
মৎস্যচাষীরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। আগে ফসল বহন করতে হতো কষ্ট করে, এখন
নৌকায় সহজে পরিবহন সম্ভব হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে
ধান, সবজি ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
যশোর প্রেস ক্লাব সভাপতি বলেন, “কৃষকদের মুখে জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদ,
রাসায়নিক কিটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং জৈব বালাই নাশক এর ব্যবহার
বৃদ্ধি করার বিষয়টা ইতিবাচক পরিবর্তন। এ পরিবর্তনের ফলে বাজারে স্বাস্থ্যকর
শাক-সবজির উপস্থিতি বেড়েছে। এটা ধরে রাখতে পারলে আমাদের অঞ্চল তথা দেশের
মানুষ উপকৃত হবে।”
সভায় অংশগ্রহণকারী মাছচাষী সদস্যরা বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতায়
দীর্ঘদিন ভুগলেও খাল খননের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, দীর্ঘদিন পর আবার
মাছ চাষে তারা সফল হচ্ছেন। তাদের মতে, বড় খালগুলো পুনঃখনন করা গেলে সুফল
আরও বিস্তৃত হবে। কৃষক সদস্যরা জানান, খাল খননের ফলে সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি
পেয়েছে। তারা স্থানীয় যোগাযোগের সুবিধার্থে একটি ছোট ব্রিজ বা কালভার্ট
নির্মাণের দাবি জানান।
সভায় সুপারিশ করা হয়—খাল খননের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাজেট রাখা,
ইউনিয়নভিত্তিক সমন্বিত খাল খনন কার্যক্রম গ্রহণ, কচুরিপানা ভাসমান কৃষি ও
জৈব সার হিসেবে ব্যবহার এবং রাসায়নিক সার ব্যতীত ফসল উৎপাদনকে উৎসাহিত
করা।
উল্লেখ্যে উক্ত মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, সুজন সরকার, অতিরিক্তি
জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), পলাশ ব্যানার্জি,
নির্বাহী প্রকৌশলী, বাপাউবো, মোঃ মোশাররফ হোসেন, উপ-পরিচালক, কৃষি
সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য
সদস্যবৃন্দ এবং সলিডারিডাড ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও
কর্মচারিবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here