স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে : “দূর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর
শুদ্ধতা”- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরে অনুষ্ঠিত হলো দুদক এর গণশুনানী। দূর্নীতি দমন
কমিশনের চেয়ারম্যান ডঃ মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এই গণশুনানীতে প্রধান অতিথি ও বিচারক
হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার মিঞা
মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও মডারেটর ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন,খুলনা
বিভাগীয় পরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদ ও যশোরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান বক্তৃতা করেন।
প্রধান অতিথি তার উদ্বোধনী বক্তৃতায় বলেন,প্রতিকার নয়,প্রতিরোধই দূর্নীতি নির্মুলের
প্রধান হাতিয়ার। দূর্নীতি বর্তমানে আমাদের দেশে একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত
হয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে দূর্নীতি বাসা বেঁধেছে। যা দূর করতে সামাজিক
আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে জাতির ঘাড়ে চেপে বসা ফ্যাসিষ্ট স্বৈরাচারকে হঠাতে যেমন ৩৭
জুলাই গণআন্দোলন গণ বিপ্লবে পরিণত হয়েছিল, তেমনি দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে
আমাদের সর্বস্তরের সুবিধা বঞ্চিত, নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি
দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গণবিপ্লবের মাধ্যমে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও তাদের পেতাত্বারা
এখনো সব স্থানে বহাল তবিয়তে আছেন। জুলাই বিপ্লবের পর এই যশোর সীমান্ত দিয়েই পতিত
স্বৈরাচারের দোসরদের পালিয়ে যেতে কিসের বিনিময়ে; কারা সহায়তা করেছে তা আমরা জানি।
এভাবে দেশের মঙ্গল হতে পারে না। সবাইকে দেশ ও জাতির কথা ভাবতে হবে।
দুদক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী তার বক্তৃতায় বলেন, আমরা সবাই দেশের
কর্মচারী, জনগণের সেবক। জনগণের দেওয়া অর্থে আমাদের বেতন-ভাতা হয়। তাই জনগণই দেশের
প্রকৃত মালিক। আর আমরা যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী তারা ওই জনগণের সেবক। আমরা
প্রত্যেকেই যদি সেই কথা মেনে যার যার অবস্থান থেকে জনগণকে সেবা প্রদান করতে পারতাম
তাহলে আজকের এই গণশুনানীর কোন প্রয়োজন ছিলো না। রাষ্ট্রে যার চেয়ারটি যত বড় তার দায়
দায়িত্বও অনেক বেশী। দিন শেষে আমরা সবাই জনগণ। গত ১৭ বছরে আত্নঅহংকারে যারা ডুবে
ছিলো আজকে তাদের অবস্থান কোথায় তা আমরা সকেলই জানি। ক্ষমতায় থেকে যারা অহংকার
করতো আজ তারা ইতিহাসের আস্থাকুড়েই নিক্ষেপ হচ্ছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ কোনদিন
টিকে থাকে পারে না; ভালো থাকতে পারেনা। তাই আপনারা সকলেই জনগণকে বন্ধু ভেবে তাদের
সাথে একটু হাসিমুখে ভালো ব্যবহার করবেন বলে তিনি উপস্থিত বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের
প্রধানদের প্রতি আহবান জানান।
উদ্বোধনী পর্বের শেষে অনুষ্ঠিত হয় জেলা সদরে অবস্থিত সরকারী বেসরকারী ৩৭টি দপ্তরের
বিরুদ্ধে উত্থাপতি ৭৫টি অভিযোগের ওপর গণশুনানী। দুদক চেয়ারম্যান, দুদক কমিশনার, দুদকের ডিজি ও দুদকের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক এই শুনানীতে বিচারকের ভূমিকা পালন করেন। আর স্বস্ব দপ্তরের দায়িত্বশীল এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি সেবা সরবরাহকারী এবং অভিযোগকারীদেরকে সেবা
গ্রহিতার আসনে বসিয়ে দিনব্যাপী চলে এই গণশুনানী। বিশেষ করে যশোরের জেলা প্রশাসকের
দপ্তর, সিভিল সার্জনের দপ্তর, রোডস এন্ডর হাইওয়ে বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা খাদ্য
নিয়ন্তকের দপ্তর,সদর এসিল্যান্ডের দপ্তর, জেলা সদরের সাব রেজিস্ট্রারের দপ্তর, যশোর জিলা
পরিষদ,বিএডিসি বীজ ও সেচ,বিআরটিএ,পিডিবি,যশোর শিক্ষা বোর্ড, যশোর বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তর, যশোর
কোতয়ালী থানা, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, জেলার বেসরকারী ক্লিনিক ও
ডায়াগনস্টিক সেন্টার,অগ্রণী ব্যাংক, ইউসিবিএল, ইসলামী ব্যাংক,যশোর হোমিওপ্যাথ
কলেজ,পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স, পদ্মা লাইফ ইন্সুরেন্সসহ বিভিন্ন দপ্তরের সুনির্দিষ্ট দূর্নীতির
অভিযোগের শুনানী ও তাৎক্ষনিক বিচারিক বোর্ড এসব অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান
করেন। শুনানী কালে বেশ কয়েকজন সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ
সন্দাতিত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক আইনি পদক্ষেপ এবং বিভাগীয়
ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ ও নির্দেশনা প্রদান করেন বিচারিক প্যানেল।















