সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ পুলিশের কথামত ঘরপোড়ানোা মামলা তুলে
নিতে রাজী না হওয়ায় বাদির তিন ভাইপোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে
ধর্ষণ মামলা দেওয়ার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসুচি
পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ ও হিন্দু যুবপরিষদ সাতক্ষীরা
জেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের শহীদ আব্দুর
রাজ্জাক পার্কের প্রধান ফটকের সামনে সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কে
এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
হিন্দু যুবপরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদস্য সচীব মনোদীপ
মণ্ডলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, জেলা মন্দির সমিতির
সভাপতি অ্যাড. সোমনাথ ব্যাণার্জী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ
খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাতক্ষরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন
কুমার শীল, জাসদ নেতা অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, জেলা পুজা ফ্রন্টের
যুগ্ম আহবায়ক অ্যাড. সুনীল কুমার ঘোষ, মানবাধিকার কর্মী
মাধব চন্দ্র দত্ত, মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ, বাসদ নেতা শিক্ষক
নিত্যানন্দ সরকার, ক্ষতিগ্রস্ত দীলিপ গাইন, সুচিত্রা গাইন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরের মীরগাং
গ্রামে গত ১৭ অক্টোবর রাত সাাড়ে সাতটার দিকে দীলিপ গাইনের
পুকুরসহ ৫০ শতক জমি নীল নেট দিয়ে ঘিরে নেওয়ার চেষ্টা করে
প্রতিপক্ষ জঙ্গল ভাংগী ও তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী একই গ্রামের
জব্বার, যতীন্দ্রনগর গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম ও মাহামাদুল
ইসলামসহ কমপক্ষে ৫০ জন। ১৭ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে
লুটপাট শেষে দীলিপ গাইনের বসতঘর ও রান্না ঘরে আগুন লাগিয়ে
ভষ্মিভুত করা হয়। এ ঘটনায় দীলিপ গাইন বাদি হয়ে থানায় একটি
মামলা দায়ের করেন। আদালত চত্বরে জঙ্গল ভাংগী ও সাগর ভাংগী মামলার
বাদিপক্ষের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা দেবেন বলে
সাংবাদিকদের জানান। বক্তারা আরো বলেন, গত ২৬ অক্টোবর ভোর
ছয়টার দিকে দীলিপ গাইনের ভাইপো বিকাশ গাইনকে বাড়ি থেকে
তুলে এনে ঘর পোড়ানো মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক
জহিরুল ইসলাম প্রতিপক্ষ এক ব্যক্তির মাকে ধর্ষণের অভিযোগে
দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানা লক আপে আটকে রাখেন।
দিনভর নাটকীয়তার একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওসি হুমায়ুন কবীর
জানান, ঘরপোড়ানো ও ধর্ষণ দুটি ঘটনাই সঠিক নয় বলে মনে
করেন তিনি। তাই উভয়পক্ষের বিশিষ্ঠজনদের নিয়ে সাংবাদিক ও
বিএনপি নেতা মনিরের উপস্থিতিতে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া
হয়েছে। একপর্যায়ে ঘরপোড়ানো মামলা তুলে নিতে রাজী না
হওয়ায় ভাইপো পলাশ, তুষার ও বিকাশের নামে ২৭ অক্টোবর ধর্ষণ মামলা
রেকর্ড করা হয়। মানববন্ধন থেকে শ্যামনগর থানার ওসি হুমায়ুন
কবীর মোল্লা ও উপ-পরিদর্শক জহিরুল ইসলামকে অপসারন ও পরিকল্পিত
ধর্ষণ মামলার সঙ্গে জড়িতদের ডিএনএ টেষ্টের মাধ্যমে চিহ্নিত করে
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়।















